হোম » প্রধান সংবাদ » সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে দাবী পানি উন্নয়ন বোর্ডের

সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে দাবী পানি উন্নয়ন বোর্ডের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : পাহাড় সমতল ও হাওর এই ধরনের ভূপ্রকৃতি নিয়ে গঠিত যে জনপদ তার নাম সুনামগঞ্জ। গত ২৭ জুন শনিবার রাত থেকে ব্যাপক পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সুনামগঞ্জে বন্যা শুরু হলে প্রথম দফাতেই সীমান্ত সংলগ্ন সদর, দোয়ারাবাজার,বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার একাংশে মানুষের কাচাপাকা ঘরবাড়িতে বন্যার পানি উঠে। জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা পানিবন্দী হয়ে অবর্ণনীয় দূর্ভোগে পড়েন। মঙ্গলবার সুরমার পানি কমলেও নিম্ন অঞ্চলে পানি বাড়ছে। ফলে জেলা শহরের দক্ষিণাংশের এলাকাসহ জগন্নাথপুর,দিরাই,জামালগঞ্জ ধর্মপাশা উপজেলা নতুন করে প্লাবিত হতে থাকে। হাওরে এসে সুরমার পানি চাপ তৈরি করায় গ্রামগঞ্জের নতুন নতুন এলাকায় অনেক মানুষের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। মানুষের পাশাপাশি ঘরবাড়ী,গবাদিপশু ও রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে গত ২৮ জুন রবিবার সুরমার পানি বিপৎসীমার ৭০ সে.মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বৃষ্টিপাত কমায় সুরমার পানি ২৯ জুন সোমবার সকাল ৯টায় সুনামগঞ্জ পয়েন্টে ৩৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদী তীরবর্তী এলাকায় পানির চাপ কিছুটা কমলেও নদীতীর বর্তী এলাকার বাইরে এসে সেই পানি চাপ সৃষ্টি করছে। এতে শহরের দক্ষিণাংশের বেশ কিছু এলাকা নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের বাউল সারোয়ার তালুকদার জানান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উজেলার শিমুলকাক ইউনিয়ন ও দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া ও রফিনগর ইউনিয়নের মানুষ পানিবন্দী হয়েছে। এখন প্রধান সড়কসহ সংযোগ একাধিক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রায় ৩ শতাধিক মানুষের বাসাবাড়িতে নতুন করে পানি প্রবেশ করেছে।

জামালগঞ্জের গজারিয়া গ্রামের সফাজ্জল হোসেন বলেন, রবিবার সকালে আমার ঘরে পানি ছিলনা। রাস্তায়ও পানি কম ছিল। কিন্তু বিকেলেই পানি ডুকে। আজ ৩ দিন ধরে আমরা পানিবন্দী রয়েছি।  বন্যায় সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ সাংবাদিক সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক আল-হেলাল বলেন,এবারের বন্যা ২০০৪ সালের ভয়াবহ বন্যাকেও হার মানিয়েছে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব সুলতানপুর আবাসিক এলাকাধীন বসতবাড়ীটি সম্পূর্ণরুপে প্লাবিত হওয়ায় আমি পরিবার পরিজন নিয়ে মোক্তারপাড়ার একটি বিল্ডিংএ আশ্রয় নেই। শহরের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এবারের বন্যায় কমবেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ সবিবুর রহমান বলেন, সুরমার পানি কমছে। তবে এই পানি নিম্ন অঞ্চলে চাপ তৈরি করায় সেখানে পানি বাড়ছে। একপর্যায়ে উজান থেকে নেমে আসা নদী ও হাওরের পানি ভাটিতে গিয়ে পড়লেই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।  সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেছেন,বন্যা নিয়ে জেলাবাসীর যে ভীতি ও আশংকা ছিল তার পুরোটাই দূর হয়েছে। জেলা প্রশাসন পূর্ব থেকে সতর্কতামূলক অবস্থানে থাকায় এ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি তেমন হয়নি। বর্তমানে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি রয়েছে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানান।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!