
আওয়াজ অনলাইন: সন্তান লালনের জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০টিরও বেশি শহরে ‘নতুন যুগের’ পাইলট প্রকল্প চালু করবে চীন। দেশটির ক্রমহ্রাসমান জন্মহারকে বাড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি।
সোমবার রাষ্ট্র সমর্থিত গ্লোবাল টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে, নারীদের বিয়ে ও সন্তান ধারণে উৎসাহিত করার জন্য প্রকল্পগুলো চালু করবে চীনের ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন। এটি একটি জাতীয় সংস্থা যা সরকারের জনসংখ্যা এবং উর্বরতা বিষয়ক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।
টাইমস বলছে, বিবাহের প্রচার, উপযুক্ত বয়সে সন্তান ধারণ করা ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে পিতামাতাকে উৎসাহিত করা এবং উচ্চ ‘কনের দাম’ ও অন্যান্য সেকেলে প্রথা রোধ করা প্রকল্পগুলোর মূল লক্ষ্য।
পাইলটের অন্তর্ভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানুফ্যাকচারিং হাব গুয়াংজু এবং হেবেই প্রদেশের হান্দান। অ্যাসোসিয়েশন ইতোমধ্যে বেইজিংসহ ২০টি শহরে প্রকল্প চালু করেছে বলে টাইমস জানিয়েছে।
জনসংখ্যাবিদ হে ইয়াফু টাইমসকে বলেন, ‘সমাজের তরুণদের বিবাহ এবং সন্তান জন্মদানের ধারণা সম্পর্কে আরও গাইড করতে হবে।’
চীনের প্রদেশগুলো কর প্রণোদনা, আবাসন ভর্তুকি এবং তৃতীয় সন্তানের জন্য বিনামূল্যে বা ভর্তুকিযুক্ত শিক্ষাসহ সন্তান জন্মদানে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
দেশটি ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অনমনীয় এক-সন্তান নীতি প্রয়োগ করে। সম্প্রতি ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পর চীন এই সীমা তিন সন্তানে উন্নীত করেছে।
চীনে ছয় দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো জনসংখ্যা হ্রাস এবং দ্রুত বার্ধক্য নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশটির সরকার। উর্বরতার হার বাড়াতে গত মার্চে অবিবাহিত নারীদের ডিম্বাণু ফ্রিজিং এবং আইভিএফ চিকিত্সার ব্যবস্থা থাকার প্রস্তাব দেন রাজনৈতিক উপদেষ্টারা।
শিশু যত্নের ব্যয়, লিঙ্গ বৈষম্য এবং ক্যারিয়ার ছেড়ে দেয়াসহ নানা কারণে চীনা নারীরা অধিক সন্তান ধারণ করা বন্ধ করে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন
আমাদের পানিতে হাত দিলে কেটে ফেলা হবে: ভারতকে পাকিস্তানি মন্ত্রী
বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ২০টি রেলকোচ প্রস্তুত করেছে ভারত
পাকিস্তানে জোড়া বোমা হামলা, নিহত ৭