ফুকেত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত থাইল্যান্ডে গেছেন ২ লাখ ৩৩ হাজার রুশ নাগরিক। এখন পর্যন্ত যা সর্বোচ্চ সংখ্যক বলে ধরা হচ্ছে।
ফুকেত একটি জনপ্রিয় দ্বীপ শহর। সেখানে অনেক রাশিয়ান নতুন বাড়ির সন্ধান করছেন। রুশ নাগরিকরা শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষা পেতে এবং ভ্রমণের জন্য বেছে নেয় এই শহরকে।
কিন্তু গত সেপ্টেম্বরে ইউক্রেন আগ্রাসনের জেরে প্রেসিডেন্ট পুতিন সামরিক সংহতি ঘোষণা করেন। এরপরই ক্ষুব্ধ হয় স্থানীয় মানুষ।
এরপর থেকেই দেশটিতে সম্পত্তি বিক্রি বেড়েছে। অনেক রুশ নাগরিক পাড়ি জমানো শুরু করেন থাইল্যান্ডে।
ফুকেতের একজন রিয়েল এস্টেট এজেন্ট সোফিয়া মালিগাভারিয়াল যিনি মূলত রাশিয়ার বাসিন্দা, তিনি জানান, ‘আমার ক্লায়েন্টরা বেশিরভাগই তরুণ। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তারা ধনী এবং তাদের বাজেটও বেশি। অনেকেই তিন থেকে ছয় মাস কিংবা এক বছর পর্যন্ত ফুকেতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
তবে সুন্দর দ্বীপে থাকতে হলে রাশিয়ানদের বাড়ি, স্কুল, চাকরি এবং ভিসা প্রয়োজন। যেসব কাজ করতে সময় লাগে। ফলে সেখানে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের অধিকার অর্জন করা কঠিন হতে পারে।
থাই রোদে জীবনযাপনের জন্য একটি বাড়ি অদলবদল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অনেক রুশ নাগরিকের কাছে অর্থ কোনো সমস্যা নয়। রাশিয়ানদের ভ্রমণের কারণে সেখানে জমির দামও রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে গেছে।
বিলাসবহুল একটি কনডো ভাড়া নিতে প্রতি মাসে খরচ ১ হাজার ডলার সেখানে সেই ভাড়া বেড়ে গেছে ৩ গুণ। এমনকি ৬ হাজার ডলারে একটি বাড়ি ভাড়া নিতে আগে থেকেই বুকিং দেওয়া হয়।
কেনাবেচার বাজারও চাঙা। থাই রিয়েল এস্টেট ইনফরমেশন সেন্টারের তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালে রাশিয়ানরা ফুকেতে বিদেশিদের কাছে বিক্রি হওয়া সব কনডোমিনিয়ামের প্রায় ৪০ শতাংশ কিনে নেয়। রাশিয়ানদের কেনাকাটার পরিমাণ ছিল ২৫ মিলিয়ন ডলার, যা চীনা নাগরিকদের ব্যয় করা পরিমাণের কয়েকগুণ।
অন্যান্য জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা যেমন কোহ সামুই, থাইল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ ও পাতায়ার পূর্ব সমুদ্র তীরের রিসোর্টও রাশিয়ানদের কাছে জনপ্রিয়। যেখানে বছরের পর বছর ধরে সমুদ্র সৈকত শহর জোমতিয়েনে একটি রাশিয়ান সম্প্রদায় রয়েছে।
আরও পড়ুন
নতুন করে লেবাননে মুহুর্মুহু হামলা
পশ্চিমবঙ্গে বড় জয়ের পথে বিজেপি, এগিয়ে ১৯২ আসনে
ইরানের নতুন প্রস্তাবে খুশি নন ট্রাম্প