
মোহাম্মদ হানিফ, নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলছে ট্রাফিক পুলিশের টোকেন বাণিজ্য। গাড়ির কাগজপত্র যাচাই এর নামে দিনে-রাতে হয়রানি নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিনত হয়েছে। তাদের চাহিদা মত টাকা দিতে না পারলে বিভিন্ন ধরনের মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এতে ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচলে সড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত ঘটছে প্রাণহানি।
সূত্র জানায়, মোটরযান আইন (সংশোধনী) ১৯৮৩ মোতাবেক ১৫৯ ধারায় জরিমানা করে ট্রাফিক বিভাগ। এ ধারায় নিষিদ্ধ হর্ণ কিংবা উচ্চশব্দ উৎপাদনকারী যন্ত্র ব্যবহার, নিষিদ্ধ পার্কিং, আদেশ অমান্য করে তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি বা ভুল তথ্য প্রদান, ওয়ান ওয়ে ভঙ্গ বা বিজ্ঞপ্তি অমান্য করে গাড়ি চালানো, কালো ধোয়া বের হওয়া, রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সার্টিফিকেট ও পার্মিট বিহীন গাড়ি চালানো সহ অন্তত ১৫টি অপরাধে জরিমানা করা হয়। এ ধরণের অপরাধের জন্য রাস্তায় দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্টরা অভিযুক্ত গাড়িকে কেস স্লিপ ধরিয়ে দেন। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্টরা মামলার পরিবর্তে অনুমোদনহীন গাড়ি আটক করে নিয়ে থাকেন টাকা। সিএনজি, ট্রাক, বাস, পিকআপ, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার ও অনুমোদনহীন থ্রিহুইলার যানবাহন মালিক-শ্রমিক সমিতি এবং ইউনিয়ন গুলো থেকে মাসিক হারে মোটা অংকের টাকা উত্তোলণ করে।
জানা যায়, সোনাপুর, মাইজদী, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ ও সোনাইমুড়ী পৌর এলাকায় প্রতিদিন কয়েক লাখ যানবাহন চলাচল করে। সোনাপুর পৌরসভার জিরোপয়েন্ট, মাইজদী হাসপাতাল সড়কের পূর্বপাশে, বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা, সোনাইমুড়ী বাইপাস মোড় ও সেনবাগ রাস্তার মাথা এলাকায় গাড়ির কাগজ চেক করে ট্রাফিক পুলিশ। তবে অভিযোগ রয়েছে, কাগজ চেকিংএর নামে নোয়াখালীর প্রায় ১৫টি স্পটে প্রতিদিন চলে টাকা আদায়। কাগজপত্র ঠিক থাকলেও নানা ধরনের মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধ্য করা হয় মাসিক টোকেন গ্রহণে। টোকেন না নিলে বিভিন্ন সময় গাড়ি রিকুইজিশনে নেওয়া হয়। আর এসকল ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে মাসে ৬০০ থেকে ২৫০০ টাকা দিয়ে টোকেন নিতে বাধ্য হন চালকেরা। টোকেন না নিলে চালকদের পড়তে হয় পদে পদে বিপদে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনাইমুড়ী পৌর এলাকার এক মাইক্রোবাস চালক জানান, সকল কাগজ ঠিক থাকলেও ট্রাফিক সার্জেন্টদের মাসোয়ারা দিতে হয়। নোয়াখালী জেলার মধ্যে গাড়ি চালালে যেকোন একজন টিআই এর থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হয়। জেলার অন্য কোন রাস্তায় সমস্যা হলে ওই টিআই সমাধান করেন। আর সারা দেশে নির্বিঘ্নে গাড়ি চালাতে নিতে হয় ২৫০০ টাকার মাসিক টোকেন। সোনাইমুড়ীর টিআই এরফান, বেগমগঞ্জের টিআই আসাদ ও সদরের টি আই সিরাজ উদ্দিনের মাধ্যমে এই টোকেন সরবরাহ হয়ে থাকে।
সোনাইমুড়ীর সিএনজি চালক নুর হোসেন অভিযোগ করে জানান, সকালে সিএনজি নিয়ে বের হলেই ১২টি স্পটে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে মারধোর করে থাকে লাইনম্যানেরা। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন সহ বিভিন্ন নামে বেনামে টাকা নিয়ে থাকে। এছাড়া মাসিক হারে বিভিন্ন স্টিকার বাবদ দিতে হয় ৬০০ টাকা করে।
সোনাইমুড়ীর টিআই এরফান জানান, সারা দেশের মত এখানেও ট্রাফিক পুলিশকে টাকা দিতে হয়। এই টাকার ভাগ উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষকে দিতে হয়।
টোকেন ব্যণিজ্যের অভিযোগের বিষয়ে জানতে কথা হয় মাইজদী সদর টিআই সিরাজ উদ্দীনের সাথে। এবিষয়ে তিনি প্রতিবেদকে বলেন, “আপনাদের গাড়ি চলতে দিচ্ছিতো। এগুলো নিয়ে কেন ঘাটাঘাটি করেন।”

আরও পড়ুন
বগুড়ায় ২ বছরের শিশুকে অপহরণ চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার