হোম » অপরাধ-দুর্নীতি » সোনাইমুড়ীতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ 

সোনাইমুড়ীতে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য জালিয়াতির অভিযোগ 

মোহাম্মদ হানিফ: নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলায় শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচনে ব্যপক অনিয়মের অভিযোগে উঠেছে। দেশের মেধাবী শিক্ষক নির্বাচন ও পুরস্কার প্রদানে চলতি বছরে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২৩ কর্মসূচি উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। আর এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সোনাইমুড়ীতে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক ও শ্রেণী শিক্ষক নির্বাচনে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে। আর এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন খোদ সোনাইমুড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
উপজেলা থেকে শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে আমিশাপাড়া কৃষক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে। তবে তার মূল্যায়ন শীট পর্যবেক্ষণ করে তথ্য জালিয়াতির সত্যতা মিলেছে।
মূল্যায়ন শীটে দেখা যায় ১৩টি গুনাবলীর ভিত্তিতে সর্বমোট পূর্ণমান রয়েছে ১০০। তবে নির্ধারিত নম্বরের যোগফল দেখাচ্ছে ১০৫। শীটে শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠিতে নির্ধারিত পূর্ণমান ১০ থাকলেও জালিয়াতি করে জাহাঙ্গীর আলমকে দেওয়া হয়েছে ১৪ নম্বর। নিজেকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান গুনাবলীতে তাকে ৫ নম্বর দেওয়া হলেও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা নন।
ডিজিটাল কন্টেন তৈরী ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন  গুনাবলীতে তাকে দেওয়া হয়েছে ২০ মার্ক। তবে এ দুটি গুনাবলীর কোনটাতেই তার সম্পৃক্ততা নেই্। শিক্ষক বাতায়ণে তার নির্মিত কোন কনটেন্ট পাওয়া যায়নি। শিক্ষার্থীদের সহায়তা, চারিত্রিক সুনাম এবং নিয়মানুবর্তীতা ক্যাটকরিতে তাকে পূর্ণমান ১৫ দেওয়া হয়। তবে অনুসন্ধানে যানা যায়, তার বিরুদ্ধে ২০২২ সালে স্কুলছাত্রীকে উক্তক্তের অভিযোগ ওঠে ছিল সেই ঘটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে সমাধান হয়।
আর এই সমস্থ তথ গোপন ও ভূয়া তথ্য দিয়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক নির্বাচনে সুপারিশ করেন আমিশাপাড়া কৃষক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমেটির সভাপতি শাহ আলম। আর তথ্যের যাচাই ছাড়ায় তাকে শ্রেষ্ঠ শ্রেণী শিক্ষক নির্বাচন করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।
অপর দিকে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন উপজেলার নিলামহাট আর্দশ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: জাফর উল্লাহ কোন প্রস্তক রচনা না করেই পেয়েছেন নম্বর আর আর্ন্তজাতিক জার্নালে কোন প্রবন্ধ প্রকাশ না হলেও নিজেই নিজেকে ১০ নম্বর দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মোস্তফা হোসেন জানান, নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় এখন কিছু কারার নেই। তবে তথ্য যাচাই ছাড়া কিভাবে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হলো তার কোন সদুত্তর তিনি দেননি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: নূর উদ্দিন মো: জাহাঙ্গীর জানান, অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!