
মঙ্গলবার (৩১ আগষ্ট) সকালে সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, কাজিপুর উপজেলার পূর্ব পাশে যমুনা নদী। রাক্ষুসী যমুনার ভাঙ্গন ঠেকাতে প্রতিবছর সরকার কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। এরপরও ভাঙন বন্ধ হচ্ছে না। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছে ড্রেজার (খননযন্ত্র) বসিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। এবং বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর দিয়ে পাইপ টানিয়ে পাশেই বালুর স্তুপ করে বালু বিক্রি করছে। এতে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বালু উত্তোলনে কারণে আশপাশের বাড়ীঘরে পানি উঠেছে।
পানি বন্ধি মনজেল আলী, ইউসুফ আলী, বাবু সেখ, শান্তি, শারমিন খাতুন, আকলিমা বেগমসহ ভুক্তভোগিরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের বাড়ীঘরে পানি উঠেছে। আমাদের জানা মতে এই যমুনা নদীতে সরকারী কোন বালু মহাল নেই। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীরা যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। বালু উত্তোলনকারী ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ আমরা কিছু বলতে সাহস পান না। আমরা এখন বিপদে রয়েছি। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বালু তোলা বন্ধ না হলে আমরা আর কেউ বাড়ীতে থাকতে পারবো না।
অপরদিকে দেখা যায়, বালু উত্তোলনের ফলে উপজেলার তারাকান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠসহ এলাকার ফসলি জমির ধান, মুরগির ফার্মসহ ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে কাজিপুর উপজেলার শুভগাছা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খোকা জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমি রতনকান্দি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলী হোসেন, মুকল সেখ গংদের অনেক বার মানা করেছি। কিন্তু তারা আমার কোন কথায় শোনেনি।
রতনকান্দি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আলী হোসেন বলেন, আমরা সবার সাথে মিল তাল করে বালু উত্তোলন করছি।সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন জানান, বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের কাছে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় লোকজন আমার নিকট অভিযোগ করেছে। তিনি আরো বলেন, বালু উত্তোলনের কারণে স্থানীয় জনসাধারণের সদস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেকেরে বাড়ীঘর, মুরগির ফার্মসহ স্থানীয় স্কুলে পানি ঢোকায় পরিবার পরিজন নিয়ে কষ্টে জীবন যাপন করছে। আমি বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর বালু উত্তোলনের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জাহিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, এই সম্পর্কে আমার জানা নেই। যদি কেউ যমুনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি অবগত নেই। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। বিষয়টি আমি দেখছি। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখছি।

আরও পড়ুন
জামালপুরে আইনজীবী স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
শেরপুরে ভাড়াটিয়াকে আটকে রেখে অন্য ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরি
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২: রাজশাহী নগরীতে আ’লীগ নেতাকর্মী-সহ গ্রেফতার ১৭