
মিজানুর রহমানঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় রুমা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য মারধরের পর মুখে বিষ ঢেলে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় গত শনিবার (২৪ জুলাই) রাতে রুমা বেগম বাদী হয়ে তিন জনের নামে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর আগে গত বুধবার (২১ জুলাই) মধ্যরাতে হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর গোতামারী এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। আহত ওই গৃহবধূ বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
গৃহবধূকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার উত্তর গোতামারী এলাকার মৃত নুর ইসলামের ছেলে ও গৃহবধূর স্বামী আতাউর রহমান (৩০), গৃহবধূর দেবর মোতাহার হোসেন (২৮) ও শাশুড়ী আঞ্জুয়ারা বেগম। আহত ওই গৃহবধূ উপজেলার পূর্ব-সিন্দুর্না এলাকার মৃত রুহুল আমিনের মেয়ে।
রবিবার (২৫ জুলাই) সকালে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দেখা যায় তিন দিন ধরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা মারধরের শ্বীকার রুমা বেগম ব্যাথার যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। বাম পাশের চোখ ফুলে গেছে। ফলে কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না তিনি। এছাড়া গলায় ও ঘাড়ে প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছে।
এ সময় রুমা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এক বছর আগে আতাউর রহমানের সাথে বিয়ে হয় তার। বিয়ের ৪ মাস পর আতাউর চট্টগ্রামে পোশাক কারখানায় কাজ করতে যায়৷ পরে আমাকেও নিয়ে যায়। এরপর সেখানে কিছুদিন থাকার পর কারনে অকারনে আমাকে নির্যাতন করে। রাত করে বাসায় ফিরে। কিছু বললেই শুরু হয় মারধর। এমনকি আতাউর আবারো আমার কাছে ৫ লক্ষ টাকা চায়।
এরই মধ্যে এই ঈদে দুজনে বাড়িতে আসি। পরে ঈদের দিন আমার ভাই আমার শশুড় বাড়িতে আসবে শুনে সবাই মিলে ভাইকে টাকার কথা বলতে বলে। কিন্ত আমি বলি নাই। ভাই চলে যাওয়ার পর আমার উপর শুরু হয় নির্যাতন। পরে রাতে আমার স্বামী,
দেবর শাশুড়ি মিলে মারধর শুরু করে। এ সময় শাশুড়ী ও দেবরের সহযোগীতায় আমার স্বামী আমার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। নিজেকে বাচার জন্য আমি চিৎকার শুরু করি আর কিছু বলতে পারি না। পরে বৃহস্পতিবার সকালে চোখ খুলে দেখি আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি।
এ বিষয়ে জানতে আতাউর রহমানের মোবাইল ০১৮৩৭৮০১১** নম্বরে একাধিকবার কল করেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দ্বায়িত্বরত চিকিৎসক ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল
অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, রুমা বেগমকে গত তিন দিন ধরে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। তবে এখনো সুস্থ হয়নি। চোখে আঘাত পাওয়ায় ফুলে গেছে, গলায় ও ঘারে প্রচন্ড ব্যাথা হচ্ছে। ফলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যেতে হবে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন
জামালপুরে আইনজীবী স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
শেরপুরে ভাড়াটিয়াকে আটকে রেখে অন্য ফ্ল্যাটে দুর্ধর্ষ চুরি
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২: রাজশাহী নগরীতে আ’লীগ নেতাকর্মী-সহ গ্রেফতার ১৭