হোম » সারাদেশ » আশ্রয়ণের ঘরে ঝুঁলছে তালা, অনেকে দিচ্ছে ভাড়া

আশ্রয়ণের ঘরে ঝুঁলছে তালা, অনেকে দিচ্ছে ভাড়া

মোহাম্মদ হানিফ( গোলজার হানিফ.)   নোয়াখালী প্রতিনিধি : আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৬৮টি ঘরের অধিকাংশ ঘরেই থাকছেনা উপকারভোগীরা। ভূমিহীন ও গৃহহীনদের ঘরে ঝুঁলছে তালা। আবার কেউ কেউ ভাড়া দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রকৃত ভূমিহীন বাছাই করতে না পারা, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক অনিয়ম করায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
৬ মাস না যেতেই কয়েকটি ঘরের মেঝে, দেওয়াল ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। কাজের অনিয়মে বসবাসের অনুপযোগী ঘরগুলোতে সুবিধা ভোগীরা  নিজেদের অর্থ ব্যায় করে সংস্কার করেছে। এ উপজেলাকে প্রাথমিক ভাবে ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করা হলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। এই উপজেলায় প্রকৃত ভূমিহীনরা পায়নি সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর। নোয়াখালী-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে এখনও বহু ভূমিহীনদের বসবাস করতে দেখা যায়।
উপজেলার নদনা ইউনিয়নের কেগনা নামক স্থানে ২৭৫টি ঘরের মধ্যে অধিকাংশ ঘরেই থাকছেনা কেউ। যাদের নামে ঘর দেওয়া হয়েছে তাদেও অনেকেই স্বচ্ছল। রয়েছে নিজস্ব বাড়ি ঘর, জমি। আবার অনেকে নিজের নামে ঘর বরাদ্দ নিয়ে ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে নিচ্ছে টাকা।
কেগনা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৩৪ নং ঘর জয়াগ ইউনিয়নের কেগনা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের স্ত্রী নূর জাহান বেগমের নামে বরাদ্দ। কিন্তু সে না থেকে ভাড়া দিয়েছেন অন্য লোককে। ৯৩ নং ঘর জয়াগ ইউনিয়নের কেগনা গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে জয়নাল আবেদিনের নামে বরাদ্দ রয়েছে। তবে সে না থেকে অন্য ব্যক্তিকে ভাড়া দিয়েছেন।
কেগনা আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী সোহেল অভিযোগ করে জানান, এখানে ২৭৫টি ঘর আর হিরাপুর ও বদরপুরে মোট তিনটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫৬৮টি ঘর রয়েছে। এসব ঘরের উপকার ভোগীরা না থেকে ভাড়া দিয়েছে। কয়েকটি ঘর বরাদ্দ দিতে উপকার ভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে টাকা।
উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামের মৃত মোফাজ্জেল ইসলামের স্ত্রী পূর্ণীমা বেগম বলেন, ঘরে না উঠতেই মেঝে ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ও নির্মাণ কাজে অনিয়ম করার কারনেই এই অবস্থা। টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় নিজের অর্থ দিয়ে নির্মাণ কাজ করিয়েছেন। সোনাইমুড়ীর জয়াগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত আকবর পলাশ জানান, প্রকৃত ভূমিহীনরা ঘর পায়নি। এখন অনেকেই থাকেন না।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। সোনাইমুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমিন বলেন, সারা দেশের মত এই উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে একটু অনিয়ম হয়েছে। নির্মাণ কাজতো করাচ্ছেন ইউএনও। ঘর বরাদ্দও তিনিই দিয়েছেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!