
হুমায়ুন কবির সুমন: আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বজ্রপাত প্রতিরোধে সিরাজগঞ্জে প্রায় ৯হাজার তালগাছের রোপন চারা করা হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে এ চারা রোপন করা হয়।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বজ্রপাতের হটস্পট এলাকা তাড়াশ উপজেলায় ৪ হাজার, উল্লাপাড়ায় ২ হাজার, রায়গঞ্জে-১ হাজার ২শতসহ মোট ৮ হাজার ৭শ’ ১৫টি তালগাছের চারা রোপন করা হয়েছে। এই চারাগুলো জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীন সড়কের রোপন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) দুপুরে উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের চকচৌবিলা গ্রামের ১ কিলোমিটার গ্রামীণ পাকা সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছের চারা রোপন করা হয়েছে। এই চাপা রোপনের পরে গরু ছাগলের হাত থেকে রোপনকৃত গাছ রক্ষায় চারদিকে বাঁশের খুটি ও জাল দিয়ে বেড়া দেয়া হয়েছে। এতে সড়কটি দৃষ্টি নন্দন হয়েছে।

জানা যায়, জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক কৃষকসহ সাধারন মানুষ বজ্রপাতের কারণে মর্মান্তিক মৃত্যুর হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঝড় বৃষ্টিতে ব্যাপক বজ্রপাত হচ্ছে। এসময় মানুষের প্রাণহানী ঘটছে। পাশাপাশি গাছপালা কমে যাওয়ায বেড়েছে তাপদাহসহ বৈরী আবহাওয়া। ফলে এই জেলাকে বজ্রপাতের হটস্পট ঘোষনা করা হয়েছে। এ থেকে জেলার মানুষকে রক্ষায় কৃষি বিভাগ থেকে জেলার ৯টি উপজেলার ১ কিলোমিটার করে গ্রামীণ সড়কে তালগাছের চারা রোপন করা হয়েছে।
উপজেলার চক-চৌবিলা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, মোতালেব জানান, আমাদের গ্রামের সড়কে কৃষি অফিস থেকে তালগাছের চারা রোপন করায় আমরা খুশি। এই গাছ বড় হলে আমরা বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাবো। সেই সঙ্গে তালগাছ থেকে তাল ও রস পাবো। এর ছায়ায় আমরা বিশ্রাম নিতে পারবো। পাখিরা নিরাপদ আশ্রয় পাবে। এলাকায় সুন্দর পরিবেশ তৈরি হবে।
এসময় উল্লাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুর্বনা ইয়াসমিন সুমিসহ কৃষি কর্মকর্তারা ও গ্রামবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর জানান, জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় বিগত দিনে বজ্রপাতে অনেক কৃষকসহ সাধারণ মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লাপাড়া, তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলা বজ্রপাতের হটস্পট। তাই এ থেকে রক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারনের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে উপজেলার গ্রামীন সড়কগুলোতে ৪ শতাধিক তালগাছ রোপন করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই গাছগুলো উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ থেকে রক্ষানেবেক্ষণ করবো। তালগাছ বড় হলে একদিকে এলাকার বজ্রপাত প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করবে। একই সাথে সড়কের মাটিক্ষয়, ঝড়-ঝাপ্টাসহ প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রতিরোধ করবে। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষ এই গাছ থেকে অনেক সুবিধা পাবে। এই প্রকল্পের অধীনে পর্যায়ক্রমে তালগাছের চারা রোপন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক