
দাগনভূঞা প্রতিনিধি: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা ইয়াকুবপুর ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড পশ্চিম চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মোহাম্মদ হুমায়ুন এর বিরুদ্ধে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীদেরকে শারিরিকভাবে যৌন হয়রানি করেন। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল হওয়ায় মান সন্মানের ভয়ে ভুক্তভোগীগন অনেকেই অভিযোগ করেননি।
এদিকে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনকে অভিভাবকগন বিষয়টি মৌখিকভাবে বেশ কয়েকবার জানালেও নেয়া হয়নি কোন কার্যকর পদক্ষেপ। প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেনের যোগসাজশে এমন অনৈতিক কর্মকান্ড, ছাত্রদেরকে দিয়ে খামারের ছাগল লালন পালন ও মৎস খামারে কাজ করান বলে অভিযোগে অভিভাবকগন উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অভিযোগে জানা যায়, দাগনভূঞা উপজেলা পশ্চিম চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ হান্নান একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ৭ এপ্রিল উপজেলা ইউইনও বরাবর।
অভিযোগের পেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তার মেয়ে স্কুলে পড়াশোনা করতে গেলে পিয়ন বিভিন্ন অজুহাতে তাকে রুমে ডেকে নেন এবং স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন ও আদর করেন।
অনেকে শিক্ষার্থী সঙ্গে এমন করলেও কেউ মুখ খুলেননি ভবিষ্যত কথা বিবেচনা ও আইনি জটিলতাসহ প্রভাবশালীদের হুমকির ভয়ে। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ছয় জনের নাম উল্লেখ করেন অভিযোগে। দীর্ঘবছর হেড মাষ্টার ও পিয়ন এমন অনৈতিক কাজ করে আসলেও বর্তমানে এক ছাত্রীর বাবা ফেনী জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহি অফিসারকে লিখিত অভিযোগ করেন। এ স্কুলে গত কয়েক বছরে ছাত্রীদেরকে অন্য স্কুলে সরিয়ে নেয়া, কাউকে অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে দেয়ার ও ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, সঠিক পাঠদান, শিক্ষক সংকট, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সঠিক তদারকির রয়েছে চরম উদাসীনতা। শিক্ষক সংকটে নতুন কেউ যোগদান করলেও প্রধান শিক্ষকের অশোভন আচরণে অনেকে অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমানে ও শিক্ষক সংকট রয়েছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সুন্দর পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন সরকার। এমন পর্যাপ্ত সু্বিধা থাকা সত্বেও দিনদিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।
গত বৃহস্পতিবার শুধুমাত্র পঞ্চম শ্রেণীতে অনুপস্থিত ছিলেন ১৮ জন তারমধ্য মেয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশী। অনেক অভিভাবক সন্তানের নিরাপত্তা ও অশালীন কর্মকান্ডের বিষয়টি অবগত হলে মেয়েদেরকর স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দিচ্ছেন। আতঙ্কে অমনোযোগী ও ভয়ে অন্যত্র বদলি কিংবা ছাত্রী সংকটে পড়তে যাচ্ছে এ বিদ্যালয়টি।
প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন কোমলমতি মেয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে শরির টিপানো সহ পাঁকা চুল বাচাই করেন প্রতিনিয়ত। তার ক্ষমতার দাপটে বিদ্যালয়ে মাসিক পরিক্ষার নামে টাকা আদায়, স্কুলে শালিশ বানিজ্যর বৈঠকখানা, পিয়ন ও প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অনিয়মকে নিয়মে ও প্রতিবাদকারীদের মাদক দিয়ে থানায় মামলা দিবে বলে ও হুমকি ধামকি প্রদান করেন।
তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সরকারি উর্ধতন কর্মকর্তাদের মাসিকভাবে দাওয়াত দিয়ে স্কুলে এনে খাওয়ার আয়োজন করেন জাঁকজমকভাবে। আত্নীয় স্বজনের পরিচয় দিয়ে কাজ করছেন অনৈতিক ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
এরকম কর্মকান্ডকে সমর্থন দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা ও স্থানীয় মেম্বার বিদ্যালয়ের সদস্য তারা স্বামী স্ত্রী দুইজনেই এ স্কুলে শিক্ষকতা করেন। অনেকের কাছে জামাই বউর স্কুল নামে পরিচিত। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ নয় বছরে প্রধান শিক্ষক পিয়নকে দিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন অনৈতিক বিশৃংক্ষল কর্মকান্ডের কারণে পিয়ন হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা ফেনী বিজ্ঞ আদালতে চলমান ও বিচারাধীন রয়েছে। শিক্ষার সুষ্ঠ পরিবেশ ও চরিত্রহীন, অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত বিদ্যালয়ের পিয়ন ও প্রধান শিক্ষকের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করেন স্থানীয় লোকজন, ভুক্তভোগী পরিবার ও শিক্ষার্থীগন। অন্যথায় এ স্কুলে ছাত্রী শূণ্য হয়ে পড়বে এবং বর্তমান তদন্ত যেন কোন অপশক্তির কাছে হেরে না যায় সে বিষয়টির উপর জোর দাবি জানান তারা।
ভুক্তভোগীর মা ফেরদৌস আরা জানান, এ স্কুলে রক্ষক যেখানে ভক্ষক হয় সেখানে পড়াশোনার মানোন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন থাকে। আমার মেয়ে যেখানে নিরাপদ নয় সেখানে সব মেয়েদের অবস্থা কি হবে! প্রধান শিক্ষক আমাদেরকে বলেন আমার বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ কিছু করতে পারবেনা। আগেও চেষ্টা করেছে কিন্ত পারেনি। আমার ভিত্তি অনেক শক্ত। এগুলো সাধারণ ঘটনা বলে প্রধান শিক্ষক জানান।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও স্থানীয় সাবেক মেম্বার নিজাম উদ্দিন জানান, পূর্বে এ রকম অনেক অভিযোগ প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরির বিরুদ্ধে আসছিল তখন মুছলেকা দিয়ে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে ভবিষ্যতে এমন কাজ করবে না মর্মে। এখন তারা একক আধিপত্য কায়েম করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করে অনৈতিক কর্মকান্ড, শালিশ বানিজ্যসহ নানা রকম কাজ স্কুলে করেন। কেউ কথা বলার সাহস পান না। তদন্ত সাপেক্ষ উপযুক্ত বিচার হওয়া উচিত।
স্কুলের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী হুমায়ুন জানান, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ইভটিজিং এর প্রতিবাদ করি বিধায় কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। তবে আমি প্রধান শিক্ষক সারের কথা শুনতে হয়। তিনি যা বলেন আমি তাই করি। আমাকে রাতে স্কুলে থাকতে বলেন তাই সবসময় স্কুলে থাকি। তিনি স্কুলে কম থাকেন। মুলত স্যারের স্ত্রী সহকারি ম্যাডাম বিদ্যালয় দায়িত্ব পালন করেন। পিকনিকে খোলা পিক-আপ দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিবেন এটা প্রধান স্যারের নির্দেশ ছিলো। আমার কোন দোষ নেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। যে সমস্ত অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দপ্তর / নৈশ প্রহরি হুমায়ুন এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে তার উপযুক্ত বিচার হোক তা আমিও চাই।
অভিযোগ সংক্রান্ত গঠিত তদন্ত কর্মকর্তা ডা. সুজন কান্তি শর্মা জানান, সুষ্ঠ ও সঠিক তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার তানিয়া জানান, চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পিতা অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্ত কমিটিকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তের কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগ প্রমানিত হলে আইনানুসারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন
ঋণের চাপে ফায়ার সার্ভিস কর্মীর আত্মহত্যা, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার অভিযোগ
বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নতুন নাম ঘোষণা
সিরাজগঞ্জে শিশু ধর্ষণ, প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার