
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি: মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রনালয়ের ভূমিহীন ও অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা বাসস্থান নির্মান প্রকল্পের অধীনে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইঊনিয়নের লোকনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেনকে বীর নিবাস নির্মান করে দেয়া হয়।
গত ২০১৬ ইং সালে কাপা ঘরের নির্মান কালে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নি¤œমানের ইট, বালু, সিমেন্ট ব্যবহার করায় তিন বছরের মাথায় ৮/১০ স্থানে ফাটল দেখা দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
মৃত্যুঝুকি নিয়ে বীর নিবাসে বসবাস করা সম্ভব না থাকার কমহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা গুলজার হোসেন্ধসঢ়; মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে আবেদন করেন। নিম্নমানের বীর নিবাস তৈরীর প্রতিকারে এবং ঠিকাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী বরাবর ১৫/০৯/২০১৯ ইং তারিখে অভিযোগ দেয়া হয়।
আভিযোগের প্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের একান্ত সচিব হাবিবুর রহমান (স্মারক নং ৪৮.০০.০০০০.১০০.০৫.০০৫.২০.১৩৩, তারিখ- ১২- ০২-২০২০ খ্রিঃ) বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গুলজার হোসেনের ঘরটি মেরামত পূর্বক
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাননীয় মন্ত্রীকে অবহিত করার জন্য নির্দেশনা দেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেননি বলে মোঃ গুলজার হোসেন সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন।
এ ছাড়াও তিনি অভিযোগ করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমাম এবং সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট।
সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের কোন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে জানাগেছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলজার হোসেন বলেন, সরকারী বরাদ্ধে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্মিত তার বীর নিবাসটি তিন বছর না পেরোতেই দেয়ালের ভিতর বাহির প্রত্যেকটি জায়গায় ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে দালানটিতে বসবাস করলে যে কোন সময় ভেঙ্গেঁ পড়ে জীবণনাশের আশঙ্কা রয়েছে। বীর নিবাস নির্মানে নাম মাত্র সিমেন্ট বালু দিয়ে নির্মান করে দেয়া হয়েছে। মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে বিবেচনা করে দালানটি পুনরায় নির্মাণ করাসহ অসাধু টেন্ডারধারী কন্ট্ধসঢ়;্রাকটরদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৯/৯/২০১৯ইং তারিখ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পিডিকে নির্দেশনা প্রদান করেন। পিডি সিইসিকে এবং সিইসিইঊই সরিষাবাড়ীকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্ধসঢ়;্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
কিন্ত দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও অসহায় বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা গুলজার হোসেন প্রতিকার পাননি। নিজের ঘর থাকলেও অসহায় বয়োবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা দম্পতি অন্যের ঘরে রাত্রি যাপন করছেন। বীর নিবাসের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেয়া ছাড়াও নির্মানের সময় টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়নি। নির্মান করা হয়নি টয়লেটও। ঘরের দরজা জানালাগুলোও নিম্নমানের কাঠের তৈরী। তিনি বীর নিবাসেই স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করেন।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক