হোম » সারাদেশ » দাগনভূঁঞায়ায় কৃষিতে রাইস ট্রান্সপ্লাট ব্যবহার

দাগনভূঁঞায়ায় কৃষিতে রাইস ট্রান্সপ্লাট ব্যবহার

দাগনভূঞায়া প্রতিনিধি: খাদ্যের লক্ষমাত্রা পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্টায় কৃষিতে বিপ্লব ও ব্যাপক সাফল্য বিরাজ করছে। যেখানে আধুনিকতার ছোঁয়া স্বাধীনতার পরববর্তী সময় মানুষ দেখেনি সেখানে বর্তমান সরকার আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তির সর্বত্র ব্যবহার করছে।
তারই ধারাবাহিকতায় কৃষির অন্যতম সাফল্য হিসেবে ফেনীর দাগনভূইয়া উপজেলা ২ নং রাজাপুর ইউনিয়ন সমাসপুর ব্লকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বাত্বক সহযোগিতায় রাইস ট্রান্সপ্লাট পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হয়েছে।
ফলে ব্যাপক আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। ইরি চাষাবাদে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে অত্র উপজেলায় সর্বপ্রথম এ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আশানুরূপ কৃষি বিপ্লব ঘটবে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ জড়িত কৃষকদের।
জানা যায়, দাগনভূইয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের দিক নির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতায় প্রায় একশত কৃষককে একত্রিত করে যাদের জমি একই সাথে পর্যায়ক্রমে ৫০ একর এর অধিক তাদেরকে নিয়ে বিভিন্ন বৈঠক ও সমাবেশ করে উৎসাহিত করেন যান্ত্রিকী করন ব্যবহারের বিষয়টি। এতে কৃষকরা উৎসাহ পোষন করেন এবং প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এ প্রক্রিয়ায় ধানের জাত নির্বাচনে এসএলএইচ -৮ ট্রেতে বীজ বপন করেন ৩৩০ কেজি ধানের বীজ, ৫ হাজার ট্রে এবং ৫০ একর জমির চাষাবাদের লক্ষমাত্রা নিয়ে। এখান থেকে চারার মেয়াদ পূর্ণ হলে মেশিনের মাধ্যমেই একই সাথে চারা রোপন, কর্তন এবং মাড়াইয়ের কাজ সম্পূর্ণ করা হবে। যা কৃষকদের কোন প্রকার খরচ বহন করতে হবেনা।
এছাড়াও কৃষকদের জন্য কীটনাশক, সার, বীজ প্রণোদনা হিসেবেও পাবেন কৃষি অফিস থেকে। (এক কড়া) ৬ শতাংশ জমিতে সচরাচর ইরির ফলন হয় সর্বোচ্চ ৩ মন সেক্ষেত্রে এ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাবহারে কৃষকরা কমপক্ষে পাবেন ৫ মন। যেখানে ৫০ একর জমির জন্য বীজতলা তৈরিতে বিশাল পরিমান জমি, পানি, আর্থিক ও অতিরিক্ত শ্রমের প্রয়োজন সেখানে ট্রেতে অল্প জায়গায় কম খরচে অধিক জমিতে চাষাবাদকে কৃষি ক্ষেত্রে একটি অভূতপূর্ব যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।
প্রবীন কৃষক আবুল মালেক জানান,   ছোট কাল থেকে কৃষি চাষাবাদ করে আসছি কিন্ত এত উন্নত প্রযুক্তি দেখিনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এ উন্নত প্রযুক্তির চাষাবাদে অনেককিছু শিখে আরোও ভালো ফলন করতে পারবেন বলে জানান তিনি।
দাগনভূঁইয়া উপ সহকারি কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহি উদ্দিন মজুমদার স্যারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় কৃষি যান্ত্রিকরণ রাইস ট্রান্সপ্লাট পদ্ধতি দাগনভূইয়া উপজেলায় প্রথম উদ্ভাবন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করছেন কৃষকগন ও আমাদের পক্ষ্য থেকে সর্বাত্নক সহযোগীতা অব্যাহত রয়েছে।
এ পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষির বিপ্লব আরোও সম্প্রসারিত হবে উপজেলা পর্যায়ে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!