
যাত্রীরা। কিন্তু বাস না পেয়ে কেউ বিকল্প যানবাহন কেউবা বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এছাড়া পরিবহন ধর্মঘটের কারণে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সকল রুটের যাত্রীরাও। এদিকে, গন্তব্যে যাওয়ার জন্য সিএনজি, মাইক্রোবাসসহ বিকল্প যানবাহনে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে যাত্রীরা জরুরি প্রয়োজনে নিজ নিজ গন্তব্যে যাচ্ছেন।
রাজশাহীগামী বাসের যাত্রী পারভিন আক্তার বলেন, সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে টিকিট কাটার সময় কাউন্টার বন্ধ পেয়ে বিকল্প পথে যাওয়ার চেষ্টা করছি। সুজন সরকার নামে এক যাত্রী বলেন, জরুরি কাজে বগুড়া যাওয়া খুবই প্রয়োজন। কিন্তু ধর্মঘটের কারণে কোনো বাস যাচ্ছে না। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও কোনো গণপরিবহনের দেখা মেলেনি। সিএনজি ও অটোরিকশা চললেও বেশি ভাড়া দাবি করছেন চালকরা।
ধর্মঘটের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন সমিতির সভাপতি সুলতান তালুকদার বলেন, ১০ দফা দাবিতে আমাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। দাবি মানা না হলে এ আন্দোলন চলমান থাকবে। সিরাজগঞ্জ জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আতিকুর রহমান আতিক জানান ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে আজ সকাল থেকে পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বুধবারের মধ্যে সড়কে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলবে।
মানুষের ভোগান্তি ও বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে চানতে চাইলে আতিক বলেন, বাস স্ট্যান্ড থেকে তো মানুষ পরিবহনই করছি না। তাই ভোগান্তি আমাদের দিক থেকে নেই। আর বিএনপির সঙ্গে এই পরিবহন ধর্মঘটের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি আমাদের দাবি আদায়ের স্বেচ্ছায় কর্মবিরতি।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, আগামী ৩ ডিসেম্বর রাশহাতী বিভাগীয় গণসমাবেশ রয়েছে। এই গণসমাবেশ উপলক্ষে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের আগমন ঘটবে। তাই ১০ দফা মূল বিষয় নয়, মূলত দেশের অন্যান্য গণসমাবেশের মতো রাজশাহীর গণসমাবেশে মানুষকে আসতে বাধা দিতেই কৌশলে এ পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। বিএনপির যে সকল নেতাকর্মীর যাওয়ার কথা তারা ঠিকই বিকল্প পথে চলে গেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আব্দুস সামাদ তালুকদার বলেন, এই ধর্মঘটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই। বাস মালিক সমিতিতে বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি সব দলের নেতারা রয়েছেন। তারা তাদের দাবি আদায়ে ধর্মঘট ডেকেছে। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগকে জড়ানোর সুযোগ নেই। জনসমাবেশে লোক জড়ো করতে পারবে না বুঝে এসব কথা বলে অগ্রিম ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি।
উল্লেখ্য, আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (হাজী মুহম্মদ মুহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে) বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ রয়েছে। আট শর্তে তাদের সেখানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান