
টঙ্গী প্রতিনিধি: টঙ্গীত দীর্ঘ ১৯ বছর পর আসছে ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাজীপুর মহানগর অন্তর্গত টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। এ সম্মেলনকে ঘিরে দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে এসেছে। নতুন কমিটিতে যারযার প্রিয় নেতাকে নেতৃত্বের আসনে দেখতে চায় কর্মীরা। তাই তাদের নেতাকে জাহির করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ গণমাধ্যমে। এ সম্মেলনে টঙ্গী পূর্ব থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী অনেকেই। তাদের মধ্যে জনপ্রতিনিধি সহ নবীন ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা রয়েছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের দাবী, সংগঠনিক অভিজ্ঞ ও দক্ষ চৌকস নেতৃত্বগুণাবলী সম্পূর্ন ব্যক্তিত্ব চায় তারা।
স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে টঙ্গী পূর্ব থানা আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আসতে অনেক নেতা-কর্মী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হয়েছে। তাদের মধ্যে টঙ্গী পূর্ব থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে যোগ্যপ্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: নূরুল ইসলাম নূরু। জানাযায়, ১৯৭৫ সালে টঙ্গীর হিমারদিঘী এলাকায় বিশিষ্ট সমাজপতি মো: নিজাম উদ্দিন মাতবরের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মো: নূরুল ইসলাম নূরু। তিনি শিক্ষাজীবন শুরু করেন টঙ্গীর নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপরে ১৯৯১ সালে নোয়াগাঁও এমএ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়ে টংগী সরকারি কলেজে লেখাপড়া করেন। রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন সাবেক এম.পি শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের নেতৃত্বে ১৯৮৯ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
এরপরে ১৯৯৬ সালে টংগী সরকারি কলেজে ছাত্র সংসদে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এরপর ২০০০ সালে টঙ্গী পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড বর্তমানে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৬ নং ওয়ার্ডের কমিশনার হিসেবে নির্বাচিত হয়ে কর্মক্ষেত্রে সততা, সাহসিকতা, দক্ষতা, চৌকস আর দৃঢ় ব্যক্তিত্ব হওয়ায় পরপর চারবার জনপ্রতিনিধি (কাউন্সিলর) হিসেবে আজও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এরই মাঝে ২০০৩ সালে অবিভক্ত টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। এতসব কিছুর পরও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। এরইমধ্যে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য, দিলকুশা স্পোটিং ক্লাবের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নিষ্ঠারসহিত দায়িত্ব কালে ক্রীড়াঙ্গনে থিতিয়ে যাওয়া ফুটবলকে মূলধারায় তুলে এনেছেন। দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।
নেপালে এশিয়া সাফ ওমেন্স গেমসের ফুটবল টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের সহকারি টিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সেই বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল চ্যাম্পিয়ান হয়েছে। তা দেখেছে দেশবাসী। গাজীপুর তথা টঙ্গী এলাকার ক্রীড়াঙ্গনকে প্রাণবন্ত ফিরিয়ে আনতে প্রতিষ্ঠা করেছেন টঙ্গী ক্রীড়া চক্র। এ সংগঠনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এলাকায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মানুষদের নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও এলাকায় সন্ত্রাস, মাদক, ইভটিজিংসহ সামাজিকমূলক অপরাধ বন্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। বরাবরই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত এই জনপ্রতিনিধি পেশাগত সাফল্য তাকে নিয়ে গেছে ঈর্ষণীয় অবস্থানে। দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম নূরুর শুধু সমাজই নয় ক্রীড়াঙ্গণেও নানামুখী অবদান রয়েছে। নিজেকে একজন জনপ্রতিনিধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিল্প-সংস্কৃতি, সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার
লালনে জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। লড়াই করে যাচ্ছেন তাদের ভাগ্য উন্নয়নের। দেশে মহামারী করোনাকালেও এলাকার সর্বসাধারণের জীবন রক্ষার্থে নিজের জীবনের মায়া ত্যাগ করে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ঔষধ সহ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। এক আলো হয়ে দুঃখ ঘুচিয়েছেন অসহায় মানুষের। এই পর্যন্ত যেই সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন, গোছানো পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সেই সংগঠনকেই গড়ে তুলেছেন তিনি। দেখিয়েছেন সাংগঠনিক দক্ষতা। ধীরে ধীরে এ ব্যক্তি নগরবাসীর কাছে হয়ে উঠেছেন নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য। নিজ এলাকাবাসীর কাছেও তার ইতিবাচক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তারা বলছেন, কাউন্সিলর নূরুল ইসলাম নূরুর মতো একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ সংগঠনিক ব্যক্তি যদি টঙ্গী পূর্ব থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হন। তাহলে সাংগঠনিক কার্যক্রমের গতিশীল অনেক বাড়বে।
এমনই একজন দক্ষ ও সফল সাংগঠনিককে চাচ্ছেন তারা। অন্যদিকে নূরুল ইসলাম নূরুর বিভিন্ন সামাজিক খেলাধুলা রাজনৈতিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মো: জাহিদ আহসান রাসেলও। গণমানুষের আওয়াজের প্রশ্ন: আপনি কাংখিত পদ পেলে সংগঠনের জন্য আপনার কি পরিকল্পনা রয়েছে? নূরুল ইসলাম নূরু গণমানুষের আওয়াজকে বলেন, আওয়ামীলীগের জন্য ইতিবাচক ফল আসবে এমন কাজ করি। জনপ্রতিনিধির দায়িত্বের বাইরে যেসব কাজ করি সেগুলি হচ্ছে ভালোলাগা আর দায়বোধ থেকে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তথা সরকার প্রধানের নির্দেশনা পালনে সর্বদা সচেষ্টা থাকি। সামনে আওয়ামী লীগের দুইটি বড় চ্যালেঞ্জ দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। দীর্ঘদিনে টঙ্গী পূর্ব থানা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি না হওয়ায় অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীরা ঘরমূখী হয়েছেন। তাদেরকে সাংগঠনিকভাবে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই সংগঠনের কার্যক্রম গতিশীল সহ সুসংগঠিত হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দুইটি চ্যালেঞ্জকেই মোকাবেলা করতে হবে।

আরও পড়ুন
মেজর হাফিজ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হওয়ায় লালমোহনে আনন্দ মিছিল
মাদক, চুরি-ছিনতাই ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বুলবুল, বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান