
খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নে আলো ফুটবেই মোঃ সালেহীন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের জন্য পায়ে হেঁটে (হুইল চেয়ার) ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন শারীরিক প্রতিবন্ধী হুসাইন ফেরদাউস। তিনি কম্পিউটার পদে বিনা বেতনে কাজ করে আসছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় আলো ফুটবেই মোঃ সালেহীন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচর্যা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নামক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সালে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নৈহাটী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এস এম আলমগীর হোসেন শ্রাবন। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে মিতা দে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিদ্যালয়ে ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে এ বিদ্যাপীঠে বিভিন্ন ৩১৫ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২০২০ সালে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করার পর আজও স্বীকৃতি বা এমপিওভুক্তির কোনো আশার আলো পাওয়া যায়নি। মানবেতর জীবন-যাপন করছেন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে খুলনাসহ সারাদেশে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় সমূহকে এমপিওভুক্তির দাবিতে আলো ফুটবেই মোঃ সালেহীন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচর্যা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের শিক্ষা সহায়ক মোঃ মিলাদুল শেখের নেতৃত্বে খুলনা প্রেসক্লাবে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ভাস্কার্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিক্ষক কর্মচারীরা।
এরপর খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে যাত্রা করে রূপসা ঘাট হয়ে পুরাতন রূপসা-বাগেরহাট ফকিরহাট সড়ক হয়ে টুঙ্গিপাড়া মাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরে বিকেলে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর মাজার জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতের জন্য পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
আলো ফুটবেই মোঃ সালেহীন প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচর্যা ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নৈহাটী ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন শ্রাবন বলেন, ২০১৬ সালে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক মিতা দে সহ ৩০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী বিনা বেতনে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তারা। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন
তদন্ত প্রতিবেদন চাওয়াকে কেন্দ্র করে চাবি চুরির অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
টাঙ্গাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রশ্নবিদ্ধ পদায়ন উঠেছে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
আত্রাইয়ে দুই ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক গৃহবধূর পা বিচ্ছিন্ন