হোম » সারাদেশ » ভরা মৌসুমেও মেঘনা-তেতুলিয়ায় নেই ইলিশের দেখা

ভরা মৌসুমেও মেঘনা-তেতুলিয়ায় নেই ইলিশের দেখা

জেএম.মমিন,বোরহানউদ্দিন (ভোলা): চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। অথচ ভোলার মেঘনা -তেতুঁলিয়া নদীর অভয়শ্রমে পাওয়া যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। ফলে   খা খা  করছে মেঘনা তেতুলিয়া পাড়ের ইলিশের আড়তগুলো। বিভিন্ন আড়তদার আর এনজিও থেকে ঋন নেওয়া জেলেদের হতাশায় দিন কাটছে। জেলে পল্লীতে সুনসান নিরবতা বিরাজ করছে। নদীতে চর জাগা,নব্য সংকট, উজানের প্রবাহ কম থাকা এবং বৃষ্টি কম হওয়ায় নদীতে পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি,নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়া,উজানে পাহাড়ি ঢল না থাকায় ভোলার নদীতে এখনো কাঙ্খিত রুপালী ইলিশ ধরা পড়ছে না। এমন বক্তব্য মৎস্য বিভাগ ও জেলেদের। জেলেরা বলছেন, আষাঢ়-শ্রাবন দুই মাস পুরো  মৌসুম।  প্রতি বছর এ  সময়ে  ইলিশ বেচাকেনায় দৌড়ঝাঁপ থাকত। অথচ এ বছর সব ঘাটগুলোতে তার পুরোই বিপরীত চিত্র।
 মৎস্য অফিস সূত্রে জানায়,দেশের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৩০ থেকে ৪০ ভাগ আহরিত হয় ভোলা জেলা থেকে। মূলত শ্রাবণ- ভাদ্র এই দুই মাস ইলিশের ভরা মৌসুম। এ সময় সাগর থেকে প্রচুর পরিমান ইলিশ নদীতে আসে। আষাঢ় পেরিয়ে শ্রারণের ১২দিনে এসেও একই অবস্থা। দুই মাস ঝাটকা সংরক্ষণ,২২দিন মা ইলিশ রক্ষা অভিযান, সাগরে টানা ৬৫ দিনের অভিযান শেষে ইলিশ শিকারের আশায় জেলেরা প্রতিদিন দল বেঁধে ভোলার মেঘনা ও তেতুঁলিয়া নদীতে জাল ফেললে ও মিলছে না কাঙ্খিত রুপালী ইলিশ। সারাদিন নদীতে ঘুরে মাছ না পেয়ে জেলেদের পেরেশানি। অন্যদিকে,ব্যবসা না থাকায় আড়তদাদের দিন কাটছে হতাশায়।
২-৪ টা পেলেও তা দিয়ে ট্রলারের  তেলের খরচ উঠছে না। অনেক জেলে নদীতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলেরা বলছেন, মাছ না পেলে নদীতে গিয়ে কোন লাভ নেই। বরং ক্ষতি। তেলের দাম বাড়ায় খরচ বাড়ে। অন্যদিকে, প্রতিদিনই মহাজনের দাদনের চাপ, ঋনের কিস্তি ও তেলের দোকানের দেনা পরিশোধের চাপে বিপাকে পড়তে হচ্ছে জেলেদের।
 মেঘনা  ও তেতুলিয়া নদীর পাড়ের কয়েকটি বড়মাছঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে জাল নৌকা কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউবা চায়ের দোকানে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মেঘনার পাড়ের  আলিমুদ্দিন বাংলাবাজার ঘাটের  জেলে রহিজল,মিজান, মির্জাকালু মাছঘাটের জেলে হাসান,আরিফ,তেতুলিয়া নদীর কালাম বর্দারের ঘাটের জেলে জুলহাস,রহমান,আকিব , নুর ইসলাম ও দরুন ঘাটের নাছির, মনির, ইলিয়াছ বলেন, নদীতে অহন মাছ পরেনা। গাংগে (নদীতে) গেলে লোকসান। তেল খরচ, জাল খরচ লাগে। একই এলাকার জেলে খোকন বলেন, নদীতে অহন মাছ কম পড়ছে। তিনি বলেন, আমি গত দুই দিন নদীতে গিয়েও তেমন মাছ পাইনি। মঙ্গলবার  নদীতে গিয়ে মাত্র ৯০০ টাকার ছোট ছোট কয়েকটি ইলিশ মাছ পেয়েছি। এ দিয়ে ট্রলারের তেল  খরচ পোষায়না।
জেলে সিদ্দিক  বলেন, গত সোমবার নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে মাত্র ৩০০ টাকার ছোট ইলিশ মাছ পেয়েছি। নদীতে অহন মাছ নেই। আমরা খুবই কষ্টে আছি। ৩ বেলা ভাত খাইতে কষ্ট।অনেকে আবার পেশা পরিবর্তনের চিন্তা করছেন। মোঃ বেলাল হোসেন বলেন, ২ হাজার টাকার সদায় (কেনাকাটা) করে নদীতে গিয়ে ৫ হাজার টাকার মাছও পাইনি। এতে আমাগো পোষায়না। এ দিয়ে আমাগো সংসার চলে না। তিনি বলেন, চলতি ভরা মৌসুমেও ভোলার নদীতে অহনো মাছ পড়ে না।
তেঁতুলিয়া নদীর নয়নের খালের আড়তদার জুয়েল বলেন,মঙ্গলবার আমার মহলে কোন ইলিশ মাছ আসেনি।
ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ শিকারের আশায় প্রতিদিনই জাল, নৌকা, ট্রলার ও বরফ নিয়ে দল বেঁধে নদীতে ছুঁটছেন জেলেরা। ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নদী চষে বেড়ালেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। ফলে অনেকটা হতাশা নিয়ে তীরে ফিরছেন তারা।মেঘনার বড় মাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মাঝি,তেতুলিয়ার কালাম বর্দার,মোশারফ হোসেন বলেন,লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে আমরা এখন অসহায়।নদীতে মাছ নেই। আমাদের ব্যবসা ও নেই
উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবি জেলে সমিতির সভাপতি আবু সাইদ মাঝি ও জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি শাহে আলম বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। তাই, সে অনুযায়ী নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মাছ পড়ার কথা।নদীতে চর জাগা, উজানের প্রবাহ কম থাকা এবং বৃষ্টি কম হওয়ায় ভোলার নদীতে এখনো কাঙ্খিত রুপালী ইলিশ ধরা পড়ছে না।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (অ দা) আলী আহম্মেদ আকন্দ বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত কারনে এ সমস্যা হতে পারে। নদী এখন ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা না পড়লেও জেলেদের জালে কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে। আশা করছি আগামী মাসের প্রথম দিকে বৃষ্টি বেশী হলে জেলেদের জালে কাঙ্খিত রুপালী ইলিশ ধরা পড়বে। বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক সহকারি-পরিচালক এ,এফ,এম নাজমুস সালেহীন জানান,জলবায়ূর পরিবর্তনজনিত বিশ^ব্যাপী উষ্ঞায়ণের প্রভাব,তেতুলিয়া নদীর নাব্য সংকটে নদীর গতিপথ পরিবর্তণ, বৃষ্টি কম হওয়ায় সমুদ্র থেকে নদীর অভিমুখে স্বাধু  পানির  চাপ কম হওয়ায়  এ সব সমস্যা হতে পারে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!