
সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটে স্ত্রী’র স্বীকৃতির দাবীতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছেন এক তরুণী। গত দুইদিন থেকে নগরীর কালীবাড়ির বাসিন্দা মিছবাহুজ্জামান রুহিনকে স্বামী দাবীতে তার বাড়ির সামনে ওই মহিলা অনশন করছেন। ওই তরুণী তাঁর হাতে সাদা প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘স্বামীর স্বীকৃতি না পেলে আমি মারা যাবো’। ওই তরুণী স্বামীর স্বীকৃতির জন্য মৃত্যুর হুমকি দিয়ে নগরীর জালালাবাদ থানাধীন কালীবাড়ি গ্রামের বন্ধন ১৪-ডি বাড়ির সামনে অবস্থান নেন।
শনিবার (২০ নভেম্বর) দুপুর দেড়টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত অবস্থানের পর পুলিশের আশ্বাসে বাড়ির সামন থেকে সরেন। তবে দুইদিনের ভেতর স্বামীর স্বীকৃতি না পেলে ফের তিনি ওই বাড়ির সামনে অবস্থান নিয়ে স্বীকৃতি আদায় করবেন বলেও জানান। তাঁর অভিযোগ, ওই বাড়ির বাসিন্দা মো. আবু হানিফের ছেলে মিছবাহুজ্জামান রুহিন তার স্বামী। কিন্তু তাঁকে স্বীকৃতি দিচ্ছেন না পেশায় থাই মিস্ত্রি রুহিন।’
তরুণীর দাবি, ‘ফেসবুকের সূত্র ধরে পরিচয়, পরে বিয়ে। এমনকি গত সাত মাস থেকে নারায়ণগঞ্জের একটি ভাড়া বাসায় তাঁকে রেখেছেন রুহিন। মাঝেমধ্যে গিয়ে থাকেনও সেখানে। কিন্তু এখন স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে চাইছেন না।’ মোছা. রেহেনা আক্তার (৩৬) নামের ওই মহিলা চাঁদপুর জেলার হাজিগঞ্জ থানার শিদনা গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের মেয়ে। আর রুহিন সিলেট নগরীর কালীবাড়ি এলাকার মো. আবু হানিফের ছেলে।
অনশনরত রেহেনা জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে রুহিনের সঙ্গে পরিচয় হয়। এই সূত্র ধরেই দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। গত ৮ মাস আগে কোর্টের মাধ্যমে তারা দু’জন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পরে রুহিন তাকে নারায়ণগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় রেখে সিলেট থেকে কয়েকদিন পর পর সেখানে গিয়ে থাকতেন। এভাবে ৭ মাস একসঙ্গে সংসার করার পর এখন এড়িয়ে চলছেন। এ জন্য স্ত্রীর স্বীকৃতি ও স্বামীর বাড়িতে অবস্থান পেতে শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) থেকে রুহিনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেই।
পরে দুই থেকে ঘণ্টা অবস্থানের পর রাত ১০ টার দিকে চলে যাই। কিন্তু কোন সমাধান না পাওয়ায় ফের শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে আবারও আমি অবস্থান নিয়ে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত থাকি। তখন জালালাবাদ থানার এসআই আসাদুজ্জামান এসে আমাকে আশ্বাস দিলে আমি আপাতত সরেছি। তিনি আমাকে দুই দিনের সময় দিয়েছেন। আমি সিলেটেই আছি। স্বামীর স্বীকৃতি না পেলে আমি যাব না। রুহিন যদি তাকে মেনে নিয়ে বাড়িতে না তুলে তাহলে মারা যাবেন বলেও হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।’
রেহেনা আরো জানান, কোনো কাবিননামা তার কাছে নেই। রুহিনের সঙ্গে তার প্রেম চলাচালীন সময় ও বিয়ের পরে তিনি নিয়মিত শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। কাবিননামা না থাকলেও ফোনের কথোপকথনের রেকর্ড ও মেসেজ আদান-প্রদানের প্রমাণ রয়েছে। বর্তমানে রুহিনের কথায় তার পরিবার আমাকে মেনে নিচ্ছে না বলে দাবী করেন রেহানা।
তাছাড়া এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন রেহেনা। পিটিশন মামলা নং- ৩৩৫/২০২১। মামলাটি বর্তমানে পিবিআই তদন্ত করছে। তবে রেহেনা আক্তারের দাবি গত সপ্তাহ খানেক আগে তিনি সিলেটে এসে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছুর রহমানের সাথে দেখা করেন। কাউন্সিলর তাঁকে নিয়ে ছেলের বাড়িতে গেলে রুহিনের পরিবারের লোকজন কাউন্সিলরের সামনেই তাঁকে মারধর করেন।
এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, ‘ওই নারী আমাদের কাছে এসেছিলেন। কিন্তু মারধরের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না। আমরা বলেছি- কাবিননামা বা উপযুক্ত প্রমাণ নিয়ে আসতে। কিন্তু তাঁর কাছে উপযুক্ত কোন প্রমাণ নেই। সে মোবাইলে বিভিন্ন রেকর্ড, ছবি প্রমাণ দেখাচ্ছে। এসব আইনের ব্যাপার। লিখিত প্রমাণ ছাড়াত আমি কিছু করতে পারি না।’
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রুহিনের বক্তব্য জানতে তার দুটি মুঠোফোন নাম্বারে কল দিলে দুটিই বন্ধ পাওয়া যায়। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জালালাবাদ থানার সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পিবিআই থেকে রুহিনের বাড়ি-ঘরের ঠিকানা ও তার স্বভাব-চরিত্রের বিষয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পরে আমি তদন্ত করে এ বিষয়ে পিবিআই’র কাছে রিপোর্ট প্রদান করেছি।

আরও পড়ুন
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ
নওগাঁয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত পরিবারে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি