
দাগনভূঞা ফেনী প্রতিনিধি: দাগনভূঞা উপজেলার মাতুভূঞা ইউনিয়নে মাতুভূঞা ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা ১৫ ই নভেম্বর ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু এর মধ্যে মাদরাসার সুপার ওমর রায়হান ও বর্তমান সভাপতি হারিছ আহমেদ মিজান এর নামে পকেট কমিটি করার অভিযোগ ওঠে। উল্লেখ্য যে, ২৫ শে অক্টোবর দাগনভূঞা নির্বাহি অফিসার কার্যালয় থেকে তফসিল ঘোষণা করে।এতে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্বে আছেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুল হক। তফসিলে মনোয়নয়নপত্র গ্রহন ও জমাদান ২৮ শে অক্টোবর থেকে ৩১ শে অক্টোবর। মনোয়নয়নপত্র বাছাই ১ লা নভেম্বর।
মনোয়নয়নপত্র প্রত্যাহার ৩ রা নভেম্বর। তফসিলে উল্লেখ ছিল মাদরাসার সুপার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের তফসিলটি বহুল প্রচারের ব্যবস্থা করার। কিন্তু বর্তমান কমিটির অভিভাবক সদস্যদের অভিযোগ তারা নির্বাচন সম্পর্কে জানতেননা।মাদরাসার সুপার ২০২১-২০২২ সালের নির্বাচনের বিষয়ে তাদেরকে মৌখিক বা লিখিত কোন ভাবেই জানাননি। স্থানীয় বাজারের ব্যাবসায়ী সাথে জিজ্ঞাসা করলে তারার মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পর্কে জানেনা। এসব ব্যাবসায়ীর অনেকের সন্তান মাদরাসায় লেখাপড়া করে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় জনসাধারণ, বর্তমান কমিটির সদস্য, দাতা সদস্য অনেকে অভিযোগ করেন, বর্তমান সভাপতি হারিছ আহমেদ মিজান ও মাদরাসার সুপারের যোগসাজশে পকেট কমিটি করার পায়তারা চলছে।কারন এর মধ্যে চারটি নমিনেশনপত্র বিক্রি হয়েছে তাও গোপনে। আবার যারা জেনেছে তাদের কাছেও বিক্রি করেনি। আরও অভিযোগ আছে বর্তমানে যে কমিটির নির্বাচনের কথা সেখানে বর্তমান সভাপতি তার দুই পছন্দের প্রার্থীদের নিকট নিজে ফরম ক্রয় করে জমা দেয়। আর একজন দাতা সদস্যর নামে সভাপতি ফরম কিনে জমা দেয়।যে দুইজন সদস্যদের নামে ফরম ক্রয় করেছে তাদের মধ্যে একজন ফটিক। আর একজন মিজান মেস্তরি। সে রাজ মেস্তরির কাজ করে। সেও শারিরিক প্রতিবন্ধি ও অশিক্ষিত।
সে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পতিবন্ধির ভাতা পায়। আর বর্তমান সভাপতি যখন গতবার নির্বাচিত হয় তখন কমিটির সবার সাথে ওয়াদা করেছিল মাদরাসার নামে ৫ লক্ষ টাকা ব্যাংকে এপডিয়ার করবে কিন্তু কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখন তার ওয়াদার কথা রাখেনি। এব্যাপারে কমিটির সদস্যরা এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে এড়িয়ে যেতেন। একারনে বর্তমান সদস্যদের বাদ দিয়ে গোপনে কমিটি করার চেষ্টা করছে।
এই নির্বাচন সম্পর্কে বর্তমান কমিটির ৩ নং অভিভাবক সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আমাদের প্রতিবেদকের কাছে স্বাক্ষর সম্মেলিত লিখিত বক্তব্যে বলেন, মাদরাসায় মাসিক মিটিংয়ের কথা বলে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে আসে।কিন্তু ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচের কথা আমাকে বলেনি।পরে শুনি আমাকে অভিভাবক সদস্য থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।আমি এই নির্বাচন মানিনা। এটা একটা পকেট কমিটি।
অনুরুপ ভাবে হাই সেকশনের ২ নং সদস্য শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষর সম্মেলিত লেখিত বক্তব্যে বলেন, আমি নির্বাচন সম্পর্কে জানিনা। মিটিং এর কথা বলে আমার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয়। নির্বাচনের কথা আমাকে মাদরাসার এক শিক্ষক মনোয়নয়নপত্র জমাদান সময়ের একদিন আগে বলে। পরে আমি সদস্য ফরমের জন্য গেলে আমাকে বলে ফরম বিক্রি শেষ। আমার কাছে ফরম বিক্রি করেনি। আমরা এই নির্বাচন মানিনা। আমরা এই নির্বাচন প্রত্যাহার চাই। এটা একটা পকেট কমিটি।
মাদরাসার সুপার ওমর রায়হানের কাছে এসব অভিযোগের ব্যাপারে তার বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বলেন, আমি নোটিশ বোর্ডে তফসিল দিয়েছি। ছাত্রছাত্রীদেরকে ক্লাশে নির্বাচন সম্পর্কে মৌখিক ভাবে বলেছি। তিনি প্রতিবেদককে প্রচারের আর কোন তথ্য দিতে পারেননি। তিনি বলেন নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের মিটিং হয়েছে। সকলের অভিযোগ তিনি অস্বিকার করেন।
মাতুভূঞা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,মাদরাসাটি আমার ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই। প্রত্যেকবার মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের ব্যাপারে আমাকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়। কিন্তু এবারে মাদরাসার নির্বাচন সম্পর্কে আমি জানিনা। আমি আপনার কাছ থেকে এইমাত্র শুনেছি। আমি চাই সকলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। শিক্ষিতকরন করার জায়গায় যেন শিক্ষিত সমাজ দিয়ে পরিচালিত হয়। কোন অশিক্ষিত দূরষ্কৃতিকারির মাধ্যমে যেন মাদরাসা পরিচালিত না হয়।
নির্বাচনি প্রিসাইডিং অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুল হক বলেন, অভিযোগের ব্যাপারে শুনেছি, তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহি অফিসার নাহিদা আক্তার তানিয়া বলেন, লেখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় তফসিল করা হবে।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল