হোম » সারাদেশ » পাটগ্রামে নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দেনমোহর বাড়িয়ে ভুয়া নিকাহ রেজিস্ট্রির অভিযোগ

পাটগ্রামে নিকাহ রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে দেনমোহর বাড়িয়ে ভুয়া নিকাহ রেজিস্ট্রির অভিযোগ

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদঃ লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে দেনমোহর বাড়িয়ে ভুয়া নিকাহ রেজিস্ট্রির অভিযোগ উঠেছে। জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর এমনি একটি অভিযোগ দায়ের করেছে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান সরকারের ছেলে রাশেদ মেনন (বিদ্যুৎ)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে ২০০৮ সালে হাতিবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নান সরকারের ছেলের সাথে পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের মাসুম আলীর কন্যা মরিয়ম আক্তার লাকীর সাথে ১ লাক ৫৫হাজার ৫শত ৫৫টাকা দেনমোহর ধার্য্য করে ৫০হাজার টাকা নগদ বুঝিয়ে দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রি করেন শ্রীরামপুর ইউনিয়নের কাজী আব্দুল বারেক।
গত ৭ মার্চ ২০১৪ সালে রাশেদ মেনন (বিদ্যুৎ) শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল বারেকের কাছ থেকে বিবাহের নকল তুলে নিজের কাছে রেখে দেন। ৭বছর পর রাশেদ মেনন (বিদ্যুৎ) জানতে পারেন তার বিবাহের সময়ের দেনমোহর শশুর বাড়ীর লোক টাকা দিয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল বারেকের কাছ থেকে পরিবর্তন করে বেশি টাকা দেনমোহর বাড়িয়ে আবারও তাদের বিবাহ রেজিস্ট্রি করেছেন।
বাধ্য হয়ে সত্যতা যাচাই করার জন্য রাশেদ মেনন (বিদ্যুৎ) ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল বারেকের কাছে যান। এবং তার বিবাহের নকল চান। চতুর কাজী বিবাহের নকল সরবরাহ করেন। রাশেদ মেনন (বিদ্যুৎ) বিবাহের নকল তুলে দেখতে পান আগের বিবাহের তারিখ ২৭ মে ২০০৮ এর জায়গায় নতুন বিবাহের তারিখ ৫ মে ২০১৪ এবং দেন মোহর আগের ১লাখ ৫৫হাজার ৫শত ৫৫টাকার পরিবর্তে  নতুন দেনমোহর করা হয়েছে ৫ লাক ৫৫হাজার ৫শত ৫৫টাকা।
রাশেদ মেনন (বিদ্যুৎ) এর কাছে অভিযোগ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভাই শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল বারেক আমার জীবনটা নরক বানিয়ে দিয়েছে। গত ২৫ জুলাই মরিয়ম আক্তার লাকী ও পরক্রিয়া প্রেমিক জাহিদুল হোসেন দুলু আমার বাড়ীতে ছোট ভাইয়ে হাতে ধরা পরে। আমি স্থানীয় দুই জন মেম্বারের মাধ্যমে মরিয়ম আক্তার লাকীকে তার ভাই সোহেল রানার মাধ্যমে তার বাবার বাড়ী পাঠিয়ে দেই। সে বাবার বাড়ী গিয়ে আমার বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা দিয়েছে।
আমি তাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাকনামা পাঠিয়েছি। কিন্তু দেনমোহর দুইটা হওয়া টাকা জমা দিতে পারছি না। আপনারাই বলেন, ২০০৮ সালে ১লাখ ৫৫হাজার ৫শত ৫৫টাকা দেন মোহরে নগদ ৫০হাজার টাকা বুঝায়ে দিয়ে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল বারেক মেয়ের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ২০১৪ সালে আমার ও স্বাক্ষীদের স্বাক্ষর জাল করে এবং আগের দেনমোহর পরিবর্তন করে ৫লাক ৫৫হাজার ৫শত ৫৫টাকা নতুন দেনমোহর ও নিকাহ রেজিস্ট্রি করেছে। আপনাদের মাধ্যমে আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ বিচার চাই। যাতে আমার মত আর কোন ছেলের জীবন নষ্ট না হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুল বারেককে সেল ফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আমি তাদের বিবাহ রেজিস্ট্রি করেছিলাম। মাঝে মাঝে তারা ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয়। তাই মেয়ে বাবার বাড়ী চলে আসে। ২০১৪ সালে উভয়ের সম্মতিতে আবার নতুন দেনমোহর করে বিবাহ রেজিস্ট্রি করেছি। নতুন দেনমোহর করার সময় কেন আপনি আগের রেজিস্ট্রি বাতিল কেন করলেন না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ভুল ভাল কথা বলেন এবং কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
জেলা রেজিস্ট্রার খালিদ মোহাম্মদ বিন আসাদ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি পাটগ্রাম উপজেলা রেজিস্ট্রারকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পাটগ্রাম উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার রতন অধিকারী বলেন, অভিযোগ তদন্ত করার জন্য জেলা রেজিস্ট্রার আমাকে বলেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আপনাদের জানাবো।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!