
রায়হান আলীঃ উল্লাপাড়া উপজেলা ডাকঘরে টাকা না থাকায় তারল্য সংকটের সৃষ্টি হয়েছে এতে প্রতিদিন শত শত গ্রাহক শূণ্য হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। এই ডাকঘরে সঞ্চয়পত্র ক্রয়কারী, স্থায়ী আমানত (এফডিআর) গ্রহণকারী ও সাধারন হিসাব খোলা গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। প্রতিদিন সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও সাধারন হিসাবের টাকা তুলতে আসা লোকজনের অর্থ মিলে এই ডাকঘরে ৭০ থেকে ৮০ লাখ নগদ টাকার প্রয়োজন। অথচ এই ডাকঘরে সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘর থেকে এখন প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হচ্ছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ডাকঘরের গ্রাহকবৃন্দ। একই সঙ্গে প্রচুর চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছেন উপজেলা ডাকঘরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ। আর এ অবস্থা চলছে প্রায় ১ মাস ধরে। উল্লাপাড়া উপজেলা ডাকঘরে গ্রাহকদের সবমিলে আমানতের পরিমান ২শথ কোটি টাকারও বেশি।
ডাকঘরের ভুক্তভোগী গ্রাহক উল্লাপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, তিনি এখানে তার স্ত্রীথর ১১ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনেছেন। এই সঞ্চয়পত্রের মাসিক মুনাফায় তার সংসার চলে। অথচ ১৫দিন ঘুরেও তিনি মুনাফার টাকা পাননি। অপর গ্রাহক উপজেলার রাঘবাড়ীয়ার সুজাবত আলী জানান, তার সঞ্চয়পত্র রয়েছে ১০ লাখ টাকার। তিনি প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে ডাকঘরে ঘুরেও এর কোন মাসিক মুনাফা তুলতে পারেননি। ফলে চরম দুর্ভোগ রয়েছে তার পরিবার। জাহাঙ্গীর আলম ও সুজাবত আলীর মতো আরো অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, ডাকঘরে টাকা না থাকায় দিনের পর দিন উল্লাপাড়ায় এসেও শূণ্য হাতে তাদেরকে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। প্রতিদিন মুনাফার জন্য শতাধিক ডাক গ্রাহক এই পোস্ট অফিসে ভিড় করছেন।
এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া উপজেলা ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার গিয়াস উদ্দিন তার ডাকঘরে টাকা না থাকা এবং শত শত গ্রাহকের দৈনন্দিন দুভোর্গের কথা স্বীকার করে জানান, একাধিক দিন মুনাফার টাকা তুলতে এসে অথবা সঞ্চয়পত্রের মেয়াদোর্ত্তীণ গ্রাহকগণ তাদের মূল টাকা না পাওয়ায় অনেক গ্রাহক ডাক কর্মচারীদের সঙ্গে চরম খারাপ আচরণ করছেন। এমনকি তাদেরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। দুথদিন আগে তিনি ডাক কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতায় ডাকঘরে পুলিশ মোতায়েন করেছিলেন। পোস্ট মাস্টার আরো জানান, তার ডাকঘরে সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও সাধারন হিসাব খোলা গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। প্রতিদিনই এদের নানামুখী মুনাফা প্রদান করতে তার ৭০ থেকে ৮০ লাখ টাকা প্রয়োজন । অথচ তিনি সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘর থেকে পাচ্ছেন প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। আর এতেই এই সমস্যা ক্রমেই প্রকট হয়েছে। অথচ তিনি নিরুপায়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার আব্দুল লতিফের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সরকার পোস্ট অফিসে সঞ্চয়পত্র খোলা এবং স্থায়ী আমানত (এফডিআর) খোলা বন্ধ করে ব্যাংকে দেওয়ায় তাদের এই দুরাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রধান ডাকঘর থেকে শুরু করে কোন ডাকঘরেই আর কোন আয়ের ব্যবস্থা নেই। প্রধান ডাকঘরে মাত্র ২ লাখ টাকার এফডিআর খোলার অনুমতি রয়েছে। চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। বস্তুতঃ গোটা দেশেই ডাকঘরগুলোর এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিষয়টি ডাক বিভাগের উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ অবহিত হয়েছেন। কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের এই সমস্যা নিরসনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই পোস্ট মাস্টার।

আরও পড়ুন
বাঘায় পৌর প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির লিখিত অভিযোগ, অফিসে উত্তেজনা
বগুড়া শাজাহানপুরে ধর্ষণ মামলার পলাতক কিশোর গ্রেপ্তার
সিরাজগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বাবু মিয়া ও রিজভীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা