
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবা জব্দ করে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ধুনট থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নং-১৬৫১, তারিখ ২২ জুলাই ২০২৬-এর সূত্র ধরে এসআই (নিঃ) মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই (নিঃ) মো. আশরাফুল ইসলামসহ সঙ্গীয় ফোর্স গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদক উদ্ধার এবং নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ধুনট উপজেলার ৭ নম্বর এলাঙ্গী ইউনিয়নের তারাকান্দী ব্রিজসংলগ্ন পশ্চিম পাশের তিন রাস্তার মোড়ে এক ব্যক্তি ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছেন। সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
রাত প্রায় ২টা ৫০ মিনিটে পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় এএসআই (নিঃ) মো. আশরাফুল ইসলাম ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি এলাঙ্গী ইউনিয়নের তারাকান্দী এলাকার হাফিজ মণ্ডলের ছেলে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি (শরিফুল ইসলাম শফিক) বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আটক ব্যক্তি তার কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট থাকার কথা জানান। পরে তার পরিহিত লুঙ্গির ডান পাশ থেকে তার নিজ হাতে বের করে দেওয়া একটি সাদা পলিথিনে রাখা ১০ পিস সন্দেহভাজন ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। সরকারি ডিজিটাল ওজন যন্ত্রে ওজন করলে উদ্ধারকৃত ট্যাবলেটগুলোর মোট ওজন ১ গ্রাম পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলেই জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে উপস্থিত সাক্ষীদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ২ পিস ট্যাবলেট পৃথকভাবে খাকি খামে সিলগালা করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৮ পিস মামলার আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
এদিকে সিডিএমএস (CDMS) যাচাই করে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পূর্বে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা এবং একটি পুলিশ ডায়েরির তথ্য রয়েছে।
ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি সন্দেহভাজন মাদক কারবারিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, ধারাবাহিক ও কার্যকর মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগই একটি মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।

আরও পড়ুন
জামালপুরে অস্তিত্বহীন রাইসমিলের নামে সরকারি বরাদ্দের অভিযোগ, খাদ্য বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মেলান্দহে ৪ লাখ টাকার হেরোইনসহ ধরা পড়ল স্বামী-স্ত্রী
ডিমলায় একদিনে পাঁচ খাতে সরকারি সহায়তা বিতরণের উদ্বোধন করলেন সংসদ সদস্য