
মোঃ মামুন আহমেদ, নন্দীগ্রাম (বগুড়া)
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ও জলাভূমিতে আবারও দেখা মিলেছে দুর্লভ প্রজাতির শামুকখোল পাখির। শত শত শামুকখোলের কলরবে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ধান কাটা মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে পাখিগুলোকে। এ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
গত রোববার সকালে উপজেলার রিধইল মাঠে প্রায় দুই থেকে তিনশ শামুকখোল একসঙ্গে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের আলোয় আশপাশের বিল, জলাশয় ও কৃষিজমি থেকে শামুক, ব্যাঙ, ছোট মাছ, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী খেয়ে সন্ধ্যা নামতেই তারা ফিরে যায় নিজেদের আবাসস্থলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিধইল গ্রামের চারপাশের বাঁশবাগান, শিমুল, কদম, পাকুড়, মেহগনি ও অন্যান্য বড় গাছে বাসা বেঁধেছে পাখিগুলো। এছাড়াও নন্দীগ্রাম ফোকপাল মাঠ সহ বিভিন্ন এলাকায় এসব পাখিগুলোদের পদচারণা দেখা যাচ্ছে। বিকেলের পর গাছের উঁচু ডালে শত শত পাখিকে পাশাপাশি বসে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়।
গ্রামবাসীরা জানান, ধূসর-সাদা রঙের এই পাখির ডানা বড়, ঠোঁট লম্বা এবং মাঝখানে ফাঁকাযুক্ত হওয়ায় সহজেই শামুকের খোল ভেঙে ভেতরের অংশ খেতে পারে। লেজ ও পাখার শেষভাগ কালো রঙের হওয়ায় দূর থেকেই পাখিগুলোকে আলাদা করে চেনা যায়। দেখতে অনেকটা বক পাখির মতো হলেও আচরণ ও খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, শুকনো ডাল, কঞ্চি ও লতাপাতা দিয়ে স্ত্রী ও পুরুষ শামুকখোল মিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ দিনে বাসা তৈরি করে। জুলাই-আগস্ট মাসে তিন থেকে পাঁচটি ডিম দেয় এবং প্রায় ২৫ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ছানাগুলো উড়তে সক্ষম হয়।
প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখির ডানার বিস্তার প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার। ঠোঁটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং পা প্রায় ১৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে এদের দেহ আরও উজ্জ্বল সাদা রঙ ধারণ করে।
বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের জলাভূমি এলাকায় শামুকখোলের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে তারা দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থান করে। খাদ্যের সংকট দেখা দিলে আবার অন্যত্র চলে যায় এবং অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে পুনরায় একই এলাকায় ফিরে আসে। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর অতিথিদের নিরাপদ আবাস ও খাদ্যসংস্থানের জন্য স্থানীয়রা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশবিদদের মতে, শামুকখোলের আগমন কোনো এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুস্থতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

আরও পড়ুন
ঋণের চাপে ফায়ার সার্ভিস কর্মীর আত্মহত্যা, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার অভিযোগ
বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নতুন নাম ঘোষণা
সিরাজগঞ্জে শিশু ধর্ষণ, প্রধান আসামি ঢাকা থেকে গ্রেফতার