
মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি)
ডিমলা উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর তিতপাড়া গ্রামে একটি মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে দুই দফায় সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর তিনজনকে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় অনেক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপন করায় পুরো এলাকা প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং একই দিন দিবাগত রাত ৩টার দিকে দুই দফায় শতাধিক সশস্ত্র ব্যক্তি উত্তর তিতপাড়া গ্রামে তান্ডব চালায়। হামলাকারীরা ধারালো ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামের চারটি বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
রহমান ও তইবার রহমান, মৃত আজিজার রহমানের ছেলে আলিনুর রহমান এবং মৃত নূর ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো বাধা দিতে গেলে গ্রামবাসীকে মারধর ও নারীদের শ্লীলতাহানির হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী আলিনুর রহমানের তিন নাবালিকা মেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, গভীর রাতে যখন হামলা চালানো হয়, তখন তাদের বাবা-মা বাড়িতে ছিলেন না। সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালানোর সময় চিৎকার করলে তাদের
ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণভয়ে তারা প্রতিবেশীদের সহায়তায় পালিয়ে আত্মরক্ষা করে। এলাকাবাসীর দাবি, দক্ষিণ তিতপাড়া বড় জুম্মা গ্রামের নুরুল ইসলাম (২৭) ও মো. আসাদুল ইসলাম (৩৩)-এর নেতৃত্বে এই বর্বর হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত এবং এর মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি। তবে তাদের পরিবারের দাবি, তারা সোমবার (২৯ জুন) চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় গেছেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে ডিমলা থানায় পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘খবর গেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। লিখিত অভিযোগের বিষয়টি। অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং এই দুর্ধর্ষ হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রশাসনের ঊধর্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অবরুদ্ধ ও আতঙ্কিত এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবিএর অভিযানে ১৬টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ১ যুবকের যাবজ্জীবন
বীরগঞ্জে খাবারে কীটনাশক ও ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ডাকাতির চেষ্টা