
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ‘সুপার ব্যানানা’ তৈরির একটি তাত্ত্বিক জৈবপ্রযুক্তি মডেল উদ্ভাবন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে টাঙ্গাইলের কুরতুবী আলিম মাদরাসার একদল ছাত্রী। রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসুর ডালের একটি জিন কলার মধ্যে সংযুক্ত করে লাইসিনসমৃদ্ধ, অধিক পুষ্টিকর কলা উৎপাদনের ধারণা উপস্থাপন করেছে তারা। তাদের এ উদ্ভাবনী প্রকল্প জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান এবং ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়। জাতীয় পর্যায়ে পুরস্কার না পেলেও বিচারক ও অতিথিদের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করে।
উদ্ভাবক দলের সদস্যরা হলেন আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমাতুজ জহুরা, অনামিকা আলফি আমরি, মিফতাহুল জান্নাত মায়া, মেঘলা আক্তার ও ফারজানা আক্তার।
দলনেত্রী ফাতেমাতুজ জহুরা জানান, প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল কলার ডিএনএ নিষ্কাশন করে রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসুর ডালের ডিএইচডিপিএস (DHDPS) জিন সংযুক্ত করার একটি মডেল তৈরি করা। এই জিন লাইসিন উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাধারণ কলায় লাইসিনের পরিমাণ কম থাকায় জেনেটিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এর পুষ্টিমান বৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে জীববিজ্ঞান ল্যাব ক্লাসে ডিএনএ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সময় তাদের মাথায় এ ধারণা আসে। পরে গাইড শিক্ষক আরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে প্রায় এক মাস গবেষণা চালিয়ে তারা ‘প্রোটিন সমৃদ্ধ কলা তৈরির জন্য কলার ডিএনএ নিষ্কাশন ও রিকম্বিন্যান্ট ডিএনএ মডেল’ শীর্ষক প্রকল্পটি প্রস্তুত করেন।
গত ৮ ও ৯ এপ্রিল টাঙ্গাইল সদর উপজেলা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের মেলায় প্রকল্পটি প্রথম স্থান অর্জন করে। পরে ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জেলা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায়ও প্রথম স্থান লাভ করে। এরপর ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।
ছাত্রীরা জানায়, কলা বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফল হলেও এতে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড লাইসিনের পরিমাণ তুলনামূলক কম। আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ঘাটতি পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের প্রকল্পে কলার ডিএনএ নিষ্কাশনের পাশাপাশি মুসুর ডালের ডিএইচডিপিএস জিন কলার ডিএনএতে সংযুক্ত করার একটি তাত্ত্বিক মডেল উপস্থাপন করা হয়েছে।
তাদের মতে, ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে প্রোটিনসমৃদ্ধ কলা উৎপাদন, অন্যান্য পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল উদ্ভাবন, অপুষ্টি দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতে পারে। তবে এ জন্য উন্নত গবেষণাগার, দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিরাপত্তা মূল্যায়ন জরুরি।
প্রকল্পের গাইড শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তারা আরও ভালো গবেষণা করতে পারবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তারা জিন ট্রান্সফারের ধারণা সফলভাবে উপস্থাপন করেছে।”
কুরতুবী আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রেজাউল করিম বলেন, “দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
মাদরাসার চেয়ারম্যান হারুনুর রশীদ খান বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য আমাদের গর্বিত করেছে। প্রয়োজনীয় গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে এ ধরনের উদ্ভাবন ভবিষ্যতে দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”

আরও পড়ুন
জামালপুরের মেষ্টায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা ও মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, ১৬ বছরের কিশোরী উদ্ধার
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ