
কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় ঘুষ গ্রহণ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের মুখে বদলি হওয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের এক অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিককে মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে আবারও একই উপজেলায় পদায়ন করায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কাউখালী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোহাম্মদ রায়হান খান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে সমালোচিত ছিলেন। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বজল মোল্লা অভিযোগগুলোর তদন্ত করেন।
তদন্তকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তিনি কাউখালী উপজেলা প্রশাসনের স্মারক নং-১১.২৫.৯২২ অনুযায়ী বিষয়টি যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই সঙ্গে অবগতির জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা পিরোজপুর এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউখালী কে অনুলিপি প্রদান করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তদন্ত প্রতিবেদনে উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, প্রকল্প নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ, অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্যও তুলে ধরা হয়।
এছাড়া একটি মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির কাছে অবৈধভাবে অর্থ দাবি এবং দাবি পূরণ না হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হয়রানির অভিযোগও প্রতিবেদনে স্থান পায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন।
পরবর্তীতে অভিযুক্ত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক রায়হান খানকে কাউখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ইন্দুরকানী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে বদলি করা হয়। তিনি ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সেখানে যোগদান করেন।
অথচ তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াই ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় কাউখালী উপজেলায় পদায়নের আদেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ এ আদেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণ ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন গ্রীনফোর্স বাংলাদেশের কাউখালী উপজেলা উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বলেন, “ঘুষ ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পুনরায় একই কর্মস্থলে পদায়ন প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে । বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি করেন।
এ ব্যাপারে অফিস সহকারি আবু রায়হান খান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি এই উপজেলায় যোগদানের আগে তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জানতে পেরেছি যে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়েছিল। এছাড়া ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে।” জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বদলি আদেশ স্থগিত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, “উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

আরও পড়ুন
জামালপুরের মেষ্টায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা ও মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ ‘সুপার ব্যানানা’ তৈরির তাত্ত্বিক মডেল উদ্ভাবন করল টাঙ্গাইলের মাদরাসা ছাত্রীরা
অপহরণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার, ১৬ বছরের কিশোরী উদ্ধার