হোম » সারাদেশ » এস আলমের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বগুড়া শেরপুরে ইসলামী ব্যাংকের মানববন্ধন

এস আলমের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে বগুড়া শেরপুরে ইসলামী ব্যাংকের মানববন্ধন

‎এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি

বগুড়ার শেরপুরে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’র -এর হাইওয়ে শাখার উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টায় শেরপুর স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রদবদলের অপচেষ্টা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং কথিত লুটের

এস আলম গ্রুপের নগ্ন হস্তক্ষেপ -এর প্রভাবের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

‎মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ ও আস্থার প্রতীক এ ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যে কোনো ষড়যন্ত্র সাধারণ গ্রাহক, আমানতকারী, ব্যবসায়ী সমাজ ও সচেতন মহল ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো শেরপুরেও এ কর্মসূচি পালিত হয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।

‎বক্তারা আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ সময় তারা ব্যাংকের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গ্রাহকসেবার মান অক্ষুণ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।

‎কর্মসূচিতে গ্রাহকদের পক্ষে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ মোঃ আনোয়ার হোসেন, নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি লাল মিয়া, ব্যবসায়ী এফ শহিদুল ইসলাম, ইসলামী হাসপাতালের পরিচালক মনিরুজ্জামান মনির, ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম, ফিরোজ মোঃ রফিক, আব্দুল আজিজ, বিশিষ্ট ওয়ায়েজীন মাওলানা মাসুম বিল্লাহ নোমানী, সোহেল রানা প্রমুখ।

‎বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক পিএলসি শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও একটি সুপরিচিত ইসলামী ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। কোটি গ্রাহকের আস্থা ও আমানতের নিরাপদ ঠিকানা হিসেবে ব্যাংকটির গ্রহণযোগ্যতা দীর্ঘদিনের। তারা আরও অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার, অনিয়ম ও ঋণ খেলাপির ঘটনা দেশের ব্যাংকিং খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অপতৎপরতা বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

‎মানববন্ধনে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। অংশগ্রহণকারীদের মতে, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ও গ্রাহক আস্থা রক্ষার দাবিতে আয়োজিত এ কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং একপর্যায়ে তা গণমানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সংহতি প্রকাশ করেন এবং দেশের ব্যাংকিং খাতকে সব ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!