
রায়হান শেখ, মোল্লাহাট, বাগেরহাট প্রতিনিধি
আজ (২৪ মে) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মবার্ষিকী। অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী এই মহান সাহিত্যিক ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) ভারতের চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে তাঁর অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণাদায়ী।
কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। তিনি যেমন কবি ছিলেন, তেমনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক। তাঁর লেখনীতে উঠে এসেছে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সাম্যের আহ্বান এবং মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা নত না করার সাহস তিনি তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ নামে পরিচিত। উপনিবেশিক শাসন, সামাজিক বৈষম্য ও ধর্মীয় সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে তাঁর ছিল দৃঢ় অবস্থান। তাঁর কবিতা ও গান সাধারণ মানুষের মনে স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তুলেছিল। বিশেষ করে তরুণ সমাজ তাঁর লেখায় খুঁজে পেয়েছিল প্রতিবাদ ও জাগরণের ভাষা।
নজরুলের সাহিত্যকর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সাম্যের চেতনা। তিনি বিশ্বাস করতেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ সমান। তাঁর রচনায় ইসলামী সংস্কৃতির পাশাপাশি হিন্দু ঐতিহ্যেরও গভীর উপস্থিতি দেখা যায়। তিনি সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন এবং ধর্মীয় বিভেদের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার।
সংগ্রামময় ছিল তাঁর জীবনও। শৈশবে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই, রাজনৈতিক কারণে কারাবরণ এবং জীবনের শেষভাগে দীর্ঘ অসুস্থতা—সব মিলিয়ে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই কেটেছে তাঁর জীবন। কিন্তু কোনো বাধাই তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে থামাতে পারেনি। মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার পক্ষে তিনি আজীবন লিখে গেছেন।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে নজরুল কেবল একজন কবি নন; তিনি একটি চেতনার নাম। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আজও মানুষকে সাহস জোগায় এবং সমাজে অন্যায়, বৈষম্য ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা দেয়।

আরও পড়ুন
বগুড়ার কাহালুতে পুকুরের পানিতে ডুবে ভাই-বোনসহ তিন শিশুর মৃত্যু
মাদকসংক্রান্ত বিরোধে শ্যালককে রক্ষা করতে গিয়ে দুলাভাই নিহত, আহত ২
নাচোলে নানান আয়োজনের মধ্যদিয়ে দূর্ণীতি প্রতিরোধ দিবস পালিত