
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতিতে একটি সালিশী বৈঠকে বিরোধকে কেন্দ্র করে আটকে রেখে আইনজীবীদের হামলায় ৭ জন আহত হয়েছে।
আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে পুলিশ। হামলার সাড়ে চার ঘন্টা পর রাত ১২টার দিকে আইনজীবী সমিতির ভবন থেকে আরও দুই আহতকে অবরুদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এনিয়ে মোট ৭ জনকে উদ্বার করে পুলিশ। আহতদের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। রবিবার বিকেল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে রেখে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠে আইনজীবি ও তাদের সহকারীদের বিরুদ্ধে৷
জানা যায়, বিকেলে একটি সালিশকে কেন্দ্র করে বিরোধের এক পর্যায়ে ইমাম হাসান বারু নামের এক ব্যক্তিকে আটকে মারধর করে আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা। এসময় বারুর দুই ছেলে ও পরিচিত কয়েকজন তাদেরকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাদেরকেও ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাদেরকে দফায় দফায় উদ্বার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।
জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রেদোয়ান আহমেদ ও স্কুল ছাত্র হাসানুল বান্না আকিব জানায়, আহত ইমাম হাসান বারু আমাদের পিতা। ঘটনার পর আমাদের মোটরসাইকেল আনতে গেলে আইনজীবীরা আটকে আমাদের দুইভাইকে বেধড়ক মারপিট করে৷ এসময় স্কুল ছাত্র হাসানুল বান্না আকিব তার শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন সাংবাদিকদের দেখান। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশ তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় হাসপাতালে পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে বলে জানান।
এদিকে সাড়ে চার ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা দুই কলেজছাত্র সিফাত ও পরশ সাংবাদিকদের জানায়, ঘটনা জানার পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে গেলে আমাদের মারধর করে উকিলবারের দোতলায় আটকে রাখে। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
এদিকে বিকেলে স্টার টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান তুষার সংবাদ সংগ্রহে গেলে তাকেও আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে তুলে নিয়ে দোতলায় আটকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং তার মুঠোফোন ও আইডি কার্ড কেড়ে লাঞ্চিত করা হয়। এমনকি পুলিশের বিশেষ শাখার এক সদস্যদের মুঠোফোন কেড়ে হুমকি ও গালিগালাজ করা হয়। অবরুদ্ধ সাংবাদিক তুষারকে ছুটিয়ে আনতে কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও লাঞ্ছিত করে আইনজীবীরা।
এ ঘটনায় আহত ৭ জনের মধ্যে বেশিরভাগই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
এঘটনায় সালিশের বাদী পক্ষেে আইনজীবি রাসেল আহমেদ রনি জানান, একটি অর্থ সংক্রান্ত মামলায় আদালতের নির্দেশে সালিশ বৈঠক চলাকালীন সময় বেশ কয়েকজন বহিরাগত বিবাদীপক্ষের হয়ে আইনজীবিদের উপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে আমাদের তরুণ আইনজীবিরা তাদেরও মারধর করে। তবে সাংবাদিকদের বিষয়টি দুঃখজনক, এটা পরিস্থিতিজনিত কারনে হয়েছে বলে জানান তিনি তবে কোন সাংবাদিকের উপর হামলা করা হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।
বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা জানান, সালিশের শেষ পর্যায়ে বহিরাগতরা কথাকাটাকাটি এবং একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে আমি নীতিগতভাবে বিব্রত হয়ে পড়ি। এরপর আমি আর কিছু দেখিনি। তবে কয়েকজনকে মারধর ও আটকের কথা শুনেছি বলে জানান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, এ ঘটনায় আহত মোট ৭ জনকে উকিল বার থেকে উদ্ধার হয়েছে। গুরুত আহত দুজনকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিন জনকে চিকিৎসা শেষে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে রাত ১২টার দুইজনকে উকিল বার থেকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি। তবে এঘটনায় আহত ৭জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন
ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির অভিযানে ৫৯০ পিস ইয়াবাসহ দুই কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার
অপবাদ দিয়ে জমি দখলের চেষ্টা? সোনারগাঁয়ে বিএনপি নেতার অভিযোগ
মির্জাপুরে নিখোঁজ তিনদিন পর নদীর পাড়ে মিললো মহিলার লাশ