
জাহিদুল হক মিন্টু, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর মান্দায় ভুয়া দলিল তৈরি করে প্রাপ্যতার চেয়ে বেশি সম্পত্তি নামজারী(খতিয়ান) করার অভিযোগ উঠেছে দলিল লেখক সুরজিৎ কুমার দাস সহ অন্যদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানার পর নামজারী আংশিক বাতিলসহ দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গত রোববার (১৯ এপ্রিল) জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (জেলা প্রশাসক) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট মোঃ মাহ্ফুজুর রহমান। তিনি উপজেলার দ্বারিয়াপুর (বুড়িদহ) গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেন মন্ডলের ছেলে।
অভিযুক্ত সুরজিৎ কুমার দাস মান্দা উপজেলার প্রসাদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত। তার সনদ নম্বর ১৫৯। তিনি উপজেলার শামুকখোল গ্রামের মৃত ফটিক চন্দ্র দাস ওরফে কিংকরী দাসের ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- গত ২০২৫ সালের ২৬ মে ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট মোঃ মাহ্ফুজুর রহমান অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে মান্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন ৯০২/১৩-১৪ নং খারিজ কেসের আলোকে সুরজিৎ কুমার দাস ও তার ভাই সুশান্ত কুমার দাস এবং সুভাষ চন্দ্র দাসের নামে প্রস্তাবিত ৩৪৫ নং খতিয়ান চালু করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই খতিয়ান সংগ্রহ করে জানতে পারেন ১৯/০১/৮৫ তারিখে ৭৫৪ নম্বর দলিল, ১৬/৯/৮১ তারিখে ৯৫৩৭ নম্বর দলিল, ৪/৫/৮৩ তারিখে ৫৭১৩ নম্বর দলিল, ৭/১০/১২ তারিখে ৭৯২৬ নম্বর দলিল এবং ৯/১১/৮৬ তারিখে ১২০১৭ নম্বর দলিল সহ আরো দলিল ধারাবাহিক হিসেবে প্রস্তাবিত ৩৪৫ নম্বর খতিয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী প্রতিকারের আশায় প্রসাদপুর-কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ৯০২/১৩-১৪ নং নামজারি কেস আংশিক বাতিলের জন্য আবেদন করেন। পরে ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারি কর্মকর্তা নামজারি আংশিক সংশোধনের জন্য সহকারি কমিশনার (ভূমি)তে প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।
ভুক্তভোগী গত ১২/৪/২০২৬ তারিখে প্রসাদপুর সাব রেজিস্ট্রি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন ৭৫৪/৮৫ নম্বর দলিলের দাতা দ্বিজেন্দ্র নাথ এবং ৯৫৩৭/৮১ নম্বর দলিলের দাতা অঙ্গী মন্ডল। দলিলের সম্পত্তির তপশীল ও ভিন্ন। অর্থ্যাৎ দলিলের দাতা তপশীল সম্পত্তির কোন ওয়ারিশ বা শরীক বা মালিক না। ওই দলিল দুটি ভূয়া।
অভিুযুক্ত সঞ্জয় কুমার ও সুব্রত কুমার যোগসাজস করে দাতা সাজিয়ে ৭/১০/১২ তারিখে ৭৯২৬/১২ নম্বর দলিল, ৪/৫/৮৩ তারিখে ৫৭১৩ নম্বর দলিল রহিমা বিবিকে ১৬ আনা অংশের মালিক দেখানো হয়েছে। ১২০১৭/৮৬ নম্বর দলিল রহিমা বিবিকে একক দাতা দেখিয়ে অভিযুক্ত সুরজিতের বাবা ফটিক চন্দ্র দাস ওরফে কিংকরী দাসের নামে জাল-জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট মোঃ মাহ্ফুজুর রহমান বলেন- আর.এস ২৪ নম্বর খতিয়ানের মালিক আজমন বিবি দিং। তার দুই মেয়ে কফিরন বিবি (আমার দাদি) ও রহিমা বিবি। ১৪/০৯/৮২ তারিখে ১১২৪৪/৮২ নম্বর দলিল মুলে মেয়েদের সম্পত্তি দলিল করে দিয়েছেন। দাদি কফিরন বিবি মারা যাওয়ায় আমি ও অন্য ওয়ারিশরা সাড়ে ১৪ শতাংশ সহ আরো সম্পত্তির মালিক। কিন্তু আমাদের সম্পত্তি সহ ৩২ শতাংশ সম্পত্তি জাল ও ভূয়া দলিল তৈরি করে সুরজিৎ কুমার গং অবৈধভাবে নামজারি করেছেন। তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হওয়া দরকার।
তবে এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সুরজিৎ কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে চান না। নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন- এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ