
এম.এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় প্রশাসনের অভিযানের পরও থামছে না অবৈধ মাটি খনন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খননের আড়ালে ফসলি জমিতে অবাধে খননযন্ত্র চালানো হচ্ছে। কাটা মাটি ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষিজমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশ ও কৃষিখাতে মারাত্মক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান পরিচালনা করলেও তা অনেকাংশে লোক দেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকে। অভিযানের পর দুই-তিন দিন মাটি কাটা বন্ধ থাকলেও পরে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে মাটি ব্যবসায়ী চক্র। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে— প্রশাসন কি তবে এই অবৈধ মাটি বাণিজ্য ঘিরে ‘চোর-পুলিশ’ খেলায় মেতেছে?
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের গজারিয়া স্কুলসংলগ্ন এলাকায় ফসলি জমির মাটি কেটে অবৈধভাবে বিক্রি করা হচ্ছে। এ কাজে জড়িত হিসেবে নাটাবাড়ি গ্রামের ছাত্রদল নেতা সুমনের নাম উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপি গ্রামের মিয়াপাড়া ও সরোয়া এলাকাতেও একইভাবে মাটি কেটে বিক্রি করছে আরেকটি চক্র। অবৈধভাবে কাটা মাটি পরিবহনের কারণে এলাকার সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধুলোবালির কারণে বাড়ছে বিভিন্ন রোগব্যাধি, পাশাপাশি ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার প্রশাসনকে জানানোর পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তারা বলেন, মাঝে মাঝে অভিযান নয়— বরং স্থায়ীভাবে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, অবৈধ মাটি খননের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ