
মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি)
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলনের সময় পাঁচজন শ্রমিককে আটক করেছে প্রশাসন। মঙ্গলবার ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, মোঃ তাইজুল ইসলাম (৩৫), পিতা: মোহাম্মদ আলী; মোঃ মিজানুর রহমান (৩৫), পিতা: মশিয়ার রহমান; আব্দুল মান্নান (৩০), পিতা: নুর ইসলাম; অলিয়ার রহমান (৪০), পিতা: মফিজ উদ্দিন এবং তারিকুল ইসলাম (২১), পিতা: সাইফুল ইসলাম। তারা সবাই ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ খড়িবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র তিস্তা নদীর বিভিন্ন অংশে মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এসব কার্যক্রমের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ শ্রমিককে আটক করে।
আটক শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মমিনুর, মিন্টু , আনু, আরিফ, হাফিজুল, সম্রাট ও রাকিব নামের কয়েকজন ব্যক্তি মেশিন বসিয়ে পাথর উত্তোলনের কাজ পরিচালনা করতেন এবং তারা শ্রমিক হিসেবে সেখানে কাজ করতেন।
আইন অনুযায়ী, নদী থেকে অনুমতি ছাড়া পাথর, বালু বা অন্য কোনো খনিজ সম্পদ উত্তোলন করা “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” এবং সংশ্লিষ্ট পরিবেশ ও খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত বিধিমালার আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ। এ আইনে অবৈধভাবে বালু বা পাথর উত্তোলনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ কাজে ব্যবহৃত মেশিন, নৌকা বা অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করার ক্ষমতাও প্রশাসনের রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিস্তা নদীতে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, নদী রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান বাবু মিয়া ও রিজভীকে গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রতিবাদ সভা
সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীসহ নিহত ৩
‘বাড়ি জামালপুরে’—এটুকুই মনে আছে; পরিচয়হীন অসহায় নারী খুঁজছেন স্বজনদের