
মোঃরুবেলআহমদ, কোম্পানীগঞ্জ,সিলেট
সিলেটের কোম্পানীঞ্জের ঐতিহাসিক শাহ আরেফিন টিলার পাথর লুট ও গ্রামীণ রাস্তা রক্ষায় প্রশাসনের বসানো লোহার বেষ্টনী (ব্যারিকেড) রাতের আঁধারে রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। এত বড় একটি লোহার কাঠামো গায়েব হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কিছুই জানে না স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ‘দায়সারা’ বক্তব্য দিয়ে একে অপরের ওপর দায় চাপিয়েছেন।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) পাড়ুয়া আলুগাঠ এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে পাথরবাহী ভারী যানবাহন রোধে যে লোহার বেষ্টনী বসানো হয়েছিল, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে টিলা এবং ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচলে আবারও ভাঙছে স্থানীয় সড়ক।
সরকারি সম্পদ চুরি এবং পাথর লুট পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম দায়সারা জবাব দেন। তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে অবগত নই।” ঘটনার বিস্তারিত জানতে তিনি ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
ওসির পরামর্শে ভোলাগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কামরুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই সুরে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।” বেষ্টনী চুরির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি উল্টো বল ঠেলে দেন উপজেলা প্রশাসনের দিকে। তিনি বলেন, “বিষয়টি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানেন।”
আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্যে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিশের নাকের ডগাতেই সরকারি বেষ্টনী চুরি হলো, অথচ তারা কিছুই জানে না—এটি রহস্যজনক।
পাথর লুটেরাদের ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে পাড়ুয়া আলুগাঠ রাস্তায় লোহার এই উচ্চতা প্রতিবন্ধক বসানো হয়েছিল। এর ফলে বড় কোনো যানবাহন বা ট্রাক্টর ওই রাস্তায় প্রবেশ করতে পারত না।
তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সুযোগ নেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন আহমেদ বলেন, “নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা পর্যন্ত আমরা কয়েকজন রাস্তায় ছিলাম, তখনো লোহার বেষ্টনীটি যথাস্থানেই ছিল। কিন্তু পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে উঠে দেখি সেটি নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও এর হদিস পাইনি। কে বা কারা রাতের আঁধারে এটি খুলে নিয়ে গেছে তা বলা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “বেষ্টনী না থাকায় রাস্তাটি এখন হুমকির মুখে। আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় বেষ্টনী বসানোর জন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছি।”
সরকারি খাস খতিয়ানের ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়াজুড়ে শাহ আরেফিন টিলার অবস্থান। জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় ৭০০ বছর আগে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী হজরত শাহ আরেফিন (রহ.) খাসিয়া পাহাড় পরিভ্রমণকালে এই টিলার চূড়ায় বিশ্রাম নিতেন।
লালচে, বাদামি ও আঠালো মাটির এই টিলার নিচে রয়েছে উন্নতমানের পাথর। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পাথরখেকো চক্রের নিরবচ্ছিন্ন লুটপাটে ইতোমধ্যে টিলার প্রায় ৮৫ শতাংশ মাটি ও পাথর কেটে সাবাড় করা হয়েছে। বেষ্টনী না থাকায় গভীর রাতে আবারও পাথরবাহী ট্রাক্টর ও ভারী যানবাহনের অবাধ চলাচল শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি থাকলেও কীভাবে এত বড় লোহার কাঠামো উধাও হলো এবং পুলিশ কেন এ বিষয়ে নির্বিকার, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবেশ ও রাস্তা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

আরও পড়ুন
শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সাকিব রাইয়্যানের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল