
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার ইছাপাশা গ্রামে দ্বীনি শিক্ষার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘ইছাপাশা কাদেরিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা’। আলফাডাঙ্গা-কাশিয়ানী প্রধান সড়কের পাশে প্রায় ৯৯ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি তার একাডেমিক উৎকর্ষ এবং আদর্শ মানুষ গড়ার অঙ্গীকারে পুরো উপজেলায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ১০ জন অভিজ্ঞ শিক্ষক-কর্মচারীর নিবিড় তত্ত্বাবধানে ২২০ জন শিক্ষার্থী এখানে কুরআন ও আধুনিক শিক্ষার পাঠ গ্রহণ করছেন। বিশেষ করে নূরানী তা’লীমূল কুরআন বোর্ড চট্টগ্রামের অধীনে পরিচালিত নূরানী বিভাগ (প্লে থেকে চতুর্থ শ্রেণি) এবং হেফজ বিভাগে প্রতিষ্ঠানটির সাফল্য চোখে পড়ার মতো। মাদ্রাসাটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর ধারাবাহিক চমৎকার ফলাফল। ২০২৪ সালের বোর্ড পরীক্ষায় ১২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাশের হার নিশ্চিত করে, যার মধ্যে ৪ জন ছিল জিপিএ-৫ প্রাপ্ত। সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত থাকে ২০২৫ সালেও যেখানে ১৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাসসহ ৩ জন জিপিএ-৫ লাভ করেছে। এছাড়া এ বছর মাদ্রাসার বার্ষিক মাহফিলে ৩ জন কৃতি শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআন হেফজ সম্পন্ন করে সম্মানজনক পাগড়ি লাভ করেছেন। বর্তমানে হেফজ বিভাগে ৩০ জন আবাসিক শিক্ষার্থী সুশৃঙ্খল পরিবেশে অবস্থান করে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, কেবল মুখস্থ বিদ্যা নয় বরং শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে মাদ্রাসাটি ভিন্নধর্মী কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এখানে ইসলামি ও জেনারেল শিক্ষার সমন্বয়ে পাঠদান করা হয়। বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতের লেখা সুন্দর ও আকর্ষণীয় করার জন্য রয়েছে আলাদা গুরুত্ব। এছাড়া শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলতে প্রতি পরীক্ষার পর কৃতিদের আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা মুন্সি বিল্লাল হোসাইন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় দ্বীনি শিক্ষার জন্য এটি একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষকদের আন্তরিকতা সত্যিই প্রশংসনীয়। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটি আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে।’
মাদ্রাসার সার্বিক অগ্রযাত্রা সম্পর্কে মুহতামিম মুফতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমরা শুধু শিক্ষা প্রদান নয় বরং প্রতিটি শিশুকে একজন সুনাগরিক ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার মিশন নিয়ে কাজ করছি। নূরানী ও হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা যাতে আধুনিক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিজেদের যোগ্য করে তুলতে পারে, সেজন্য আমরা আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়েছি। এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও শিক্ষকদের নিষ্ঠার কারণে মাদ্রাসাটি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক