হোম » সারাদেশ » সূর্যের দেখা নেই তিনদিনেও, শীতে কাবু সিরাজগঞ্জের মানুষ

সূর্যের দেখা নেই তিনদিনেও, শীতে কাবু সিরাজগঞ্জের মানুষ

হুমায়ুন কবির সুমন, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে গত তিনদিনেও সূর্যের দেখা নেই সিরাজগঞ্জে। কনকনে শীতে স্থবির হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের মানুষের জনজীবন। ঘনকুয়াশার কারণে কৃষকেরা মাঠে নামতে পারছে না। ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে ঠান্ডাজনিত রোগব্যাধি। ফলে জেলা জুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। শীতের তীব্রতায় কাঁপছে মানুষ।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা বেড়েই চলেছে। এখন পর্যন্ত দেখা নেই সূর্যের। ঘন কুযাশার কারণে মহাসড়ক এবং আঞ্চলিক সড়কে দিনেও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে যানবাহন। এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস।

তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জাহেদুল ইসলাম বলেন, সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরো জানান, বাতাসের গতিবেগ বাড়ার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে। এই বৈরি আবহাওয়া আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। আজ চরাঞ্চল এলাকাগুলোতে দিনভর কুয়াশায় ঢাকা থাকবে বলে তিনি জানান।

এদিকে শীতের তীব্রতায় হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। শিশু ও বয়স্ক মানুষ সর্দি, জ্বরসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতলে চিকিৎসা নিতে আসছেন বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকরা। এই শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও খোলা আকাশের নিচে থাকা অসহায়দের। শীত থেকে বাঁচতে শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে বেড়েছে মানুষের ভিড়, বিক্রি বেড়েছে সোয়েটার, জ্যাকেট ও কম্বলের।

একইভাবে বিপাকে পড়েছেন কৃষি শ্রমিক, নির্মাণ শ্রমিক, ফুটপাতের দোকানিরা স্বাভাবিকভাবে তাদের কাজকর্ম করতে পারছে না। এতে নিত্যদিনের কাজকর্মে হয়েছে ছন্দপতন। তীব্র ঠান্ডায় কৃষি কাজও ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, সকালে আকাশে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় ব্যাপক শীত অনুভূত হচ্ছে। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ দেখায় নিম্ন আয়ের মানুষগুলোর কর্মজীবনে নেমেছে স্থবিরতা। জীবিকার তাগিদে শীতকে উপেক্ষা করেই কাজে বের হচ্ছেন অনেকে।

শিয়ালকোল ইউনিয়নের আড়িয়া মোহন গ্রামে মাঠে কাজ করা কৃষক সুলতান মিয়া বলেন, ঘন কুয়াশা থাকায় ব্যাপক ঠান্ডা পড়েছে। অনেক বছর পরে এতো শীত পড়েছে। এই শীতে জমির পানিতে নেমে কাজ করতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তবুও কাজ তো করতেই হবে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মওলা বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে কৃষি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রচন্ড শীতে কৃষকেরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। এতে কৃষি কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, এ পরিস্থিতিতে ফসল সুরক্ষায় কৃষকদের আগাম সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় করণীয় সম্পর্কে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন, যাতে শীতজনিত কোনো ক্ষতি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!