হোম » সারাদেশ » দহগ্রামবাসীর সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন জামায়াত নেতা রাজু

দহগ্রামবাসীর সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ চাইলেন জামায়াত নেতা রাজু

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) নির্বাচনী আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজুর নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নবাসীর তীব্র দুর্ভোগ ও মৌলিক সমস্যা সম্বলিত একটি স্মারকলিপি সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পেশ করেছেন। দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা ও তিনবিঘা করিডোর সংক্রান্ত জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান চেয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এলাকাবাসীর পক্ষে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন সাবেক প্রধান শিক্ষক এ কে এম সাহাবুদ্দিন মাষ্টার ও রেজানুর রহমান রেজা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ্য করা প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক তিনবিঘা করিডোর দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা। এর ফলে স্থানীয় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, ভুট্টা এবং নির্মাণ সামগ্রী যেমন ইট, সিমেন্ট, পাথর, বালু বিক্রি ও পরিবহন করতে পারছে না। এছাড়াও একই করিডোর দিয়ে গবাদি পশু প্রবেশে বিএসএফ এর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে যা এলাকার অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিস্তা নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে যৌথ বেড়িবাঁধ নির্মাণের জরুরি দাবি জানানো হয়েছে স্মারকলিপিতে। এছাড়াও ১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রাপ্য ১৭৮x৮৫ মিটার ভূমি/রাস্তা পুরোপুরি হস্তান্তর না করা এবং বর্তমান রাস্তার অপ্রশস্ততা ও অসুবিধাজনক অবস্থান নিয়ে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ভারতের নির্ধারিত সপ্তাহে মাত্র ৬০টি গরু বিক্রির অনুমতি প্রথা বিলুপ্ত করে অনির্দিষ্ট সংখ্যক গবাদিপশু পারাপারের দাবি জানানো হয়।

সীমান্তে ভারতের বসানো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্চ লাইটের আলোতে বাংলাদেশি জমির ফসল নষ্ট হওয়া এবং সীমান্তবর্তী বাড়িগুলোর বসবাস ব্যাহত হওয়ার কথা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। দহগ্রাম আঙ্গোরপোতায় প্রস্তাবিত দুটি বিজিবি ক্যাম্প দ্রুত স্থাপনের জোর অনুরোধ জানানো হয়। ভারতীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবস্থানকালীন সময়ে করিডোর দিয়ে বাংলাদেশি মানুষ ও যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখায় জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে বলে উল্লেখ করে জানানো হয়, এতে করে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুবরণ করছেন।

আনোয়ারুল ইসলাম রাজু বলেন, “দহগ্রামবাসীর সমস্যা আমার নিজের সমস্যা। তাদের দুঃখ-কষ্ট আমি গভীরভাবে অনুভব করি। প্রধান উপদেষ্টার কাছে আমরা যে স্মারকলিপি পেশ করেছি, তা এই এলাকার মানুষের ন্যায্য দাবির প্রতিফলন। আমি সরকারের কাছে দ্রুত সমস্যা সমাধানের জোর অনুরোধ জানাই এবং দহগ্রামবাসীর পাশে থেকে তাদের অধিকারের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করছি।”

প্রযুক্তিগত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, দহগ্রাম আঙ্গোরপোতায় ওয়াই-ফাই স্থাপনের জন্য মাটির নিচ দিয়ে ক্যাবল লাইন স্থাপন করা হলেও ভারত করিডোর দিয়ে তা নিয়ে যেতে বাধা দিচ্ছে। এছাড়াও ২০ শয্যাবিশিষ্ট স্থানীয় হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবার মান ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবের কথা উল্লেখ করে দ্রুত উন্নত চিকিৎসাসেবা চালুর চাহিদা জানানো হয়।

দহগ্রাম ইউনিয়নবাসীর দাবি আদায় ও তাদের সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে প্রতিনিধিদলটি জানান। স্মারকলিপির অনুলিপি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা, লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক, ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এবং পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকাবাসী সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!