হোম » সারাদেশ » শুনানি ছাড়াই ছয় লেন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের সংবাদ সম্মেলনে অনিয়মের অভিযোগ।

শুনানি ছাড়াই ছয় লেন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত মালিকদের সংবাদ সম্মেলনে অনিয়মের অভিযোগ।

মো:রাফাত হোসেন,ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে শুনানি ছাড়াই ক্ষতিপূরণের টাকা নির্ধারণ করায় ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা।

শনিবার (২৩ আগস্ট) সকালে কালীগঞ্জ উপজেলা শহরের মোটর শ্রমিক মালিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হাজী মো. শহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওবায়দুল ইসলাম পাটোয়ারী, ফরিদ উদ্দিন মিয়া, জালাল উদ্দীন, আবু জাফরসহ আরও অনেকে।

ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত মালিকরা:

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার থেকে ফুলবাড়ি পর্যন্ত ১৯টি মৌজার প্রায় সাড়ে চার হাজার জমির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রতি শতক প্রায় পাঁচ লাখ টাকা হলেও প্রশাসন ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেছে মাত্র ১৮০০ টাকা হারে। অনেক বাণিজ্যিক জমিকে ‘ডোবা ও ‘ডাঙ্গা’ হিসেবে দেখিয়ে কম মূল্যায়ন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেন, জমি অধিগ্রহণে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ৭ ধারা নোটিশের পর স্থানীয় মালিকদের সঙ্গে শুনানি করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। শুনানি ছাড়াই জেলা প্রশাসন সরাসরি ৮ ধারা নোটিশ জারি করেছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যক্তিগত অভিযোগ:

দুলাল মুন্দিয়া গ্রামের মামুনুর রহমান রানা জানান, তার জমির মৌজা রেট নির্ধারিত ছিল ৭৭ হাজার ২১৮ টাকা, কিন্তু জেলা প্রশাসন তাঁকে দিয়েছে মাত্র ৪ হাজার ২২৭ টাকা। কালীগঞ্জ মৌজার মালিক বাবুল আক্তার বলেন, তাঁর তিন দাগে বাণিজ্যিক জমি অধিগ্রহণ হলেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে ডাঙ্গা শ্রেণিতে। বুজরুক মুন্দিয়া গ্রামের মসিউর রহমান অভিযোগ করেন, খতিয়াতে জমি ডাঙ্গা হলেও দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ডোবা হিসেবে।

প্রভাবশালীদের কারসাজির অভিযোগ: 

সংবাদ সম্মেলনে জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, সাবেক জেলা প্রশাসক এস. এম. রফিকুল ইসলাম এবং ভারতে নিহত সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের প্রভাবেই জমির মূল্যে বৈষম্য করা হয়েছে। তাদের কারসাজিতে প্রভাবশালী মালিকরা কয়েক কোটি টাকা বেশি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, পাশাপাশি একই শ্রেণির জমি অধিগ্রহণ হলেও একজন পাচ্ছেন ৯ কোটি টাকা, অথচ অন্যজনকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৬০ লাখ টাকা।

কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি:

ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা ৮ ধারা নোটিশ প্রত্যাহার করে পুনরায় সার্ভে করে বর্তমান বাজারমূল্যে ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান। অন্যথায় হরতাল, অবরোধ ও প্রয়োজনে আত্মাহুতি দেওয়ার মতো কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!