
এম,এ রাশেদ,বগুড়া জেলা প্রতিনিধি: বগুড়া শহরতলীর মাদলা ইউনিয়নের নিশ্চিতপুর এলাকায় অবস্থিত আমেনা ডেইরি ফার্মের নির্মাণাধীন অফিস থেকে আমেনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। গত ২১ আগস্ট বিকেলে সদর থানার এসআই নুরুজ্জামান আদালতের আদেশের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করেন।
বগুড়া জেলা জজ কোর্টে দায়েরকৃত প্রতারণামূলক অর্থ আত্মসাতের মামলার (মামলা নং: ১৮৮৫/২৫) বিচারিক আদেশের ভিত্তিতে এই গ্রেফতার কার্যকর করা হয়। জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ ও তার স্ত্রী-যিনি একই ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক – উভয়ের বিরুদ্ধেই একাধিক প্রতারণা মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এছাড়া, জয়পুরহাট জেলা জজ কোর্টে আবুল কালাম আজাদের নামে একটি মাদক চোরাচালান মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
সূত্র জানায়, পূর্ববর্তী একটি ক্ষমতাসীন সরকারের দুইজন এমপি এবং কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় থেকে আবুল কালাম আজাদ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে উন্নয়ন প্রকল্প ও অনুদান এনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বগুড়াসহ আশপাশের জেলার বহু এনজিও, খামার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেন।
এই প্রতারণার চক্র আবারও সক্রিয় হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর, যেখানে একই কৌশলে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১৫ বছরে কালাম আজাদ ও তার স্ত্রীর নামে-বেনামে বিপুল সম্পদ অর্জনের তথ্য উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
ঢাকায় দুইটি দামী ফ্ল্যাট বগুড়ায় দুইটি বহুতল ভবন গোবিন্দগঞ্জে সাত বিঘা জমিতে ফার্ম রংপুর, ফরিদপুর, রাজশাহী ও গাইবান্ধায় বাড়ি খামারের জন্য তিনটি ভিন্ন স্থানে জমি
সংশ্লিষ্টরা প্রশ্ন তুলেছেন, একটি এনজিও – যেখানে নেই কোনো স্থায়ী কর্মী, নেই দেশি বা বিদেশি প্রকল্প-সেটি কীভাবে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে ও সাইনবোর্ড সর্বস্ব কার্যক্রমের মাধ্যমে এত সম্পদের মালিক হলো?
সার্বিক পরিস্থিতি তদন্তাধীন, তবে জনমনে এই প্রশ্ন ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে-প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে যাওয়া এই চক্রের প্রকৃত বিচার আদৌ হবে কি না?

আরও পড়ুন
গোপালপুরে বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এর বাবা ইন্তেকাল করেছেন
বগুড়ায় ২ বছরের শিশুকে অপহরণ চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন