
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীতে ডুবে নাজিম (৫) নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার (৯ জুলাই) সকাল ৭টার দিকে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল তিস্তা নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় ভাবে জানা যায়, উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ডাংরার হাট বাজার সংলগ্ন তিস্তার তীরে বসবাস করেন রফিকুল ইসলাম। গতকাল (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে তার তৃতীয় পুত্র নাজিম বাড়ির পাশে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এসময় তার মা কাছাকাছি কিছু মহিলার সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎ সন্তানকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তিনি। অনেক খোঁজ করেও তাকে না পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয় যে নাজিম নদীতে পড়ে যেতে পারে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাজিম প্রায়ই নদীর পাড়ে খেলা করতো এবং সেখানকার একটি বাঁধা নৌকায় উঠত। সন্ধ্যার পরও শিশুটির সন্ধান না মেলায় রাজারহাট ফায়ার সার্ভিসের সাব অফিসার আবু তাহেরের মাধ্যমে রংপুর ডুবুরি দলের লিডার কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
বুধবার সকাল ৭টায় রংপুর ও রাজারহাট ফায়ার সার্ভিসের যৌথ তত্ত্বাবধানে ডুবুরি নজরুল ইসলাম ও তার সহকর্মীরা নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। মাত্র ১০ মিনিটের প্রচেষ্টায় বাঁধা নৌকার পাশ থেকে শিশু নাজিমের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধার হওয়ার সাথে সাথেই শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ফায়ার সার্ভিসের অভিযান শেষে মৃতদেহটি স্থানীয় ইউপি সদস্য মমতাজ বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়। এলাকাবাসী উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ছয় বছর আগেও এই একই স্থানে নাজিমের দাদা মনতাজ আলী একটি নৌকাসহ পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন এবং আজও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের একাধিক সদস্য একই স্থানে প্রাণ হারানোয় রফিকুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

আরও পড়ুন
বগুড়ায় ২ বছরের শিশুকে অপহরণ চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় বাবাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার