
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বিষাক্ত ও দূষিতক্যামিক্যাল দিয়ে চিনির সাথে ফিটকারী, হাইড্রোজ ও রং মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নির্বিচারে তৈরি হচ্ছে ভেজাল গুড় যা মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যান্ত ক্ষতিকারক। ভৈরব বাজারে দীর্ঘ দিন যাবতবত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গড়ে তৈরী হচ্ছিল এ গুড়।গত সোমবার রাত ৯টায় স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পৌর শহরের রানীর বাজার শাহী মসজিদের সামনে গেলে মিশুক ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এই ভেজাল গুড় তৈরি কারখানা দেখতে পান সাংবাদিকরা। মিশুক বাবুর পরিচালনায় কারখানাটি পরিচালনা করছিল তারই ছেলে শিমুল পোদ্দার।
সরেজমিনে কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, দূষিত চিনি আর ফিটকারী, হাইড্রোজ ও রং দিয়ে তৈরি করছে ভেজাল গুড়। এই কারখানাকে এর আগেও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘কারখানার পাশেই তিনতলা বিল্ডিংয়ে আমি পরিবার নিয়ে থাকি। কারখানা কালো ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছি আমরা। পচা-বাসি গন্ধে বমি পর্যন্ত হয়। আবাসিক এলাকায় কারখানা কীভাবে চালায় সাংবাদিকদের নিকট প্রশ্ন তুলেন তিনি। জানতে তিনি। এসময় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে ইয়াসিন মিয়া নামে এক হোটেল মালিক বলেন, ‘আমরা ভয়ে কথা বলি না। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তারা দীর্ঘদিন যাবত ভেজাল গুড় তৈরি করে আসছে।’
কারখানা মালিক শিমুল পোদ্দার বলেন, ‘চিনি দিয়েই আমি গুড় তৈরি করি। ইন্ডিয়া থেকে চিনি আসে। সারা বাংলাদেশেই চিনি দিয়ে গুড় তৈরি হয়। তাই আমিও তৈরি করি। আখের অনেক দাম আবার তা সারা বছর পাওয়া যায় না। তাই চিনিতেই ভরসা।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিদিন ১০০ পাটা গুড় বানাতে পারেন। প্রতি বাটা গুড় বিক্রি হয় ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। ভৈরবে এক প্রভাবশালী নেতাকে নিয়মিত গুড় বানিয়ে দিতেন তার প্রতিষ্ঠানে বিক্রির জন্য এবং নিজেও বিক্রি করতেন।
পৌরসভার স্যানেটারী ইন্সপেক্টর নাসিমা বেগম বলেন, ‘কারখানায় সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ভেজাল জিনিসপত্র দিয়ে গুড় তৈরি করা হচ্ছে। যা মানুষের খাবারের উপযোগী নয়। এ কারণে আমি কারখানাটি তালাবদ্ধ করে চাবি রেখে দিয়েছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে খবর পেয়ে কারখানায় যাই। এ কারখানাকে এর আগেও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।’
এ বিষয়ে নবাগত উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শবনম শারমিন জানান, গতকাল সকালে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে কারখানাটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য প.প. কর্মকর্তা ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন, ভেজাল সব খাবারই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। চিনি, ফিটকারী, হাইড্রোজ ও রং ব্যবহার করে তৈরি করা গুড় খেলে মানবদেহের অনেক ক্ষতি হয়। প্রতিটি উপাদানই ক্ষতিকারক। এই ভেজাল গুড় মানুষের পেটে বেশি সমস্যা হয়। এতে লিভার নষ্ট হতে পারে। ধীরে ধীরে মানবদেহে নানাবিধ সমস্যা।
-এম আর ওয়াসিম-

আরও পড়ুন
বগুড়া মহাস্থান মাজারের ১৫ দানবাক্সে মিলল সাড়ে ৩৪ লাখ টাকা, গণনায় লেগেছে প্রায় দুই দিন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
নওগাঁয় সরকারি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করায় যুবক আটক