
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি সানাউল হোসেন হিরোর বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে ছাগল চুরির অভিযোগ এনে থানায় অভিযোগ করেন একই এলাকার বাসিন্দা জাহেরা বিবি। চুরি যাওয়া ছাগল কান্ডে বিভিন্ন গণমাধ্যেমে সংবাদ প্রকাশের পরে ছাগল চোর আটক না হলেও চুরি যাওয়া ছাগলের দাম ২০হাজার টাকা দিলেন সয়ং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বদলগাছী থানার এসআই আব্দুল মমিন।
উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে ছাগল চুরির এমন ঘটনায় এলাকায় বেশ গুঞ্জন উঠেছিল। তবে মামলার সুষ্ঠ তদন্ত না করে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক না করে পুলিশ নিজেই ছাগলের দাম পরিশোধ করায় আবারো ঘটনাটি নিয়ে বেশ তোলপাড়ের সৃষ্টি করেছে এলাকায়। ছাগল চুরির পেছনে কে বা কারা ছিল ? এ নিয়ে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা।
এদিকে চুরি যাওয়া ছাগলের দাম পেলেও জাহেরা বেগম চোরের নাম জানতে চাইলে বিভিন্ন বুঝ দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এসআই আব্দুল মমিন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বদলগাছী উপজেলার হঠাৎপাড়া (মাস্টারপাড়া) মহল্লার বাসিন্দা জাহেরা বেগম এর ছাগলটি ঈদের দুই দিন আগে চুরি হয়। চুরি যাওয়া ছাগলটি গত ১৫জুন দুপুরে টা কৃষকলীগের সভাপতি সানাউল হোসেন হিরোর বাড়ির গেটে গেলে সে অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ছাগলটি বাড়ির ভিতরে নিয়ে যায় বলেও জানতে পারেন ভুক্তভোগী ছাগল মালিক। পরে তিনি আরও বিভিন্নভাবে জানতে পারে ছাগলটি চুরি করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে হিরো।
তবে এমন সন্দেহের পিছনে বড় কারন হল, কৃষকলীগের সভাপতি হিরোর সাথে পারিবারিক বিবাদ রয়েছে ছাগল মালিক জাহেরা বিবির। তুচ্ছ কোন বিষয় নিয়ে হিরোর সাথে বিবাদ ঘটলেই হারিয়ে যেত জাহেরা বিবির ছাগল। এবারো ঠিক এমন ঘটনা ঘটেছে জানতে পেরে জাহেরা বেগম, গত ১৯শে জুন উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি সানাউল হক হিরোর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়টি জানার পরে সানাউল হক হিরো বিভিন্ন ভাবে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং মারধরের হুমকি ধুমকি দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
তবে অভিযোগের ১৫/২০ দিন পরে বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুব আলম এর নির্দেশে ঐ ছাগলের অনুমানিক মূল্য ২০হাজার ধার্য করে এসআই আব্দুল মমিন এর মাধ্যমে সেই টাকা তুলে দেওয়া হয়েছে জাহেরা বেগমকে। এসময় ছাগল চোরের নাম জানতে চাইলে পুলিশ বলেন, চোরের নাম কি দরকার আপনার চুরি যাওয়া ছাগলের মূল্যে হিসাবে ২০হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে আর কোনো কথা বলার দরকার নেই চলে যান।
ছাগল মালিক ভুক্তভোগী জাহেরা বেগম বলেন, বদলগাছী সদরের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন একদিন বিষয়টি মিমাংসা করে নিতে বলেন এবং আমাকে ২০হাজার টাকাও অফার করেন কিন্তু আমি নেইনি। তারপর দিন এসআই আব্দুল মুমিন আমাকে থানায় ডেকে নিয়ে ছাগলের ক্ষতিপুরন হিসেবে ২০হাজার টাকা ধরিয়ে দেন। কে টাকা দিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যারের নির্দেশে আপনাকে টাকা দেয়া হয়েছে কে ছাগল চুরি করেছে বা কে টাকা দিলো আপনার এত কিছু জানার দরকার নেই এখন যান।
তবে কি কৃষকলীগের সভাপতি সানাউল হোসেন হিরো ছাগল চোর ? না কি ছাগল চোরকে সহায়তা করলেন বদলগাছী থানা পুলিশ ? এমন প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহলসহ ভুক্তভোগী জাহেরা বেগম।
ছাগলের দাম দিয়ে বিষয়টি মিমাংশা করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বদলগাছী উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি সানাউল হোসেন হিরো বলেন, আমি চুরি করিনি টাকা দেওয়ার প্রশ্ন আসেনা। ২০হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। অপর এক প্রশ্নে তিনি আরও বলেন-আমি আদালতে মানহানি মামলা করেছি কয়েক দিনের মধ্যে মামলার নোটিশ পাবেন জাহেরা বেগম। মানহানি মামলার কাগজ দেখতে চাইলে তিনি বলেন- কাগজ আমার কাছে নেই। কাগজ গুলো নওগাঁ আমার মামাতো ভাই এর কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে এসআই আব্দুল মমিন এর সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, টাকা লেনদেনের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ওসি সাহেবের সাথে কথা বলেন বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুব আলম বলেন, জাহেরা বেগমকে ছাগলের মূল্যে বাবদ ২০হাজার টাকা কে দিয়েছে সেটা আমার জানা নেই। তবে অভিযোগকারী জাহেরা ইচ্ছা করলে মামলা করতে পারেন।
-জাহিদুল হক মিন্টু-

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ