
কক্সবাজারে রামু উপজেলার আনসার ভিডিপির কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে ঘুষ ও অনিয়ম দুর্নিতির বিস্তর অভিযোগ উঠছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের উপজেলা নির্বাচনের দ্বায়িত্ব বন্টনে পিসি,এপিসি, সাধারণ আনসারদের নিকট থেকে গ্রুপ ওয়ারি ৬-৭ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আবার অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর ও গ্রুপ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অনেক ভূক্তভোগী।
যারা টাকা দিয়ে গ্রুপ নিয়েছেন তারাও সাধারণ আনসারদের কাছ থেকে জন প্রতিজন ১.৫ অথবা ২ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন।আরো অভিযোগ উঠছে ২০২৪ সালের নির্বাচনের ডিউটিতে আনসারের প্রশিক্ষণ বিহীন ও অস্ত্রট্রেইনিং বিহীন অনভিজ্ঞ লোকদেরকে ডিউটিতে পাঠিয়েছেন। নির্বাচনের দিন কেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে অনেক কেন্দ্রে আনসার সদস্যদের গায়ে পোশাক ও হাতে লাটি ছিল না।
তাদের এই বিষয়ে কথা বললে তারা সাংবাদিকদের জানান অফিস থেকে আমাদেরকে পোশাক ও লাটি সরবরাহ করা হয়নি। সরকারী নিয়ম মোতাবেক একটা কেন্দ্রে ৬ টি বুথ থাকলে পিসি,এপিসিসহ ১৩ জন আনসার সদস্য দ্বায়িত্ব পালন করা আবশ্যক। কিন্তুু অধিকাংশ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে ২-৩ জন করে লোক আনসারের লোক নাই। কিন্তুু সূ-চতুর টিআই আমান উল্লাহ সিসিতে নিয়ম মোতাবেক জনবল দেখিয়ে সিসি ধরিয়ে দিলেও বাস্তবের সাথে মিলে নেই। প্রতিকেন্দ্রে সাধারণ মহিলা আনসার কেন্দ্র ওয়ারি ৪-৫ জন থাকার কথা থাকলেও তাদের পোশাক নিয়ম মোতাবেক শাড়ি পড়ার কথা থাকলেও তারা আনসারের শাড়ি পড়েন নাই। কেউ কেউ মাত্র একটা কুটি গায়ে দিয়ে দ্বায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে তাদের সাথে কথা বললে তারা বলেন অফিস থেকে আমাদেরকে দেওয়া হয় নি আমরা কোথায় পাব। টিআই মোহাম্মদ আমান উল্লাহ মহেশখালী/চকরিয়া থেকে তার নিজস্ব লোক ভাড়া করে এনে উপজেলা নির্বাচনে দ্বায়িত্ব পালন করতে দিয়েছেন মর্মে জানা গেছে। এ বিষয়ে টিসি আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন আমরা যারা এলাকার ট্রেনিং প্রাপ্ত সমস্থ কাগজপত্র ঠিক আছে আমাদেরকে গ্রুপ দেয় নাই।
কারণ আমাদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে পারবে না তাই। রামু উপজেলার নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে আরো দেখা গেছে মাছুয়াখালী আশরাফুল উলুম কেন্দ্রে দেখা গেছে দুইজন খালী। জোয়ারিয়ানালা ঘোনার পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন খালী। নাদিরুজ্জমান উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ জন খালী।
জোয়ারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ জন খালী। রামু বার্মিজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২জন খালী। গর্জনিয়া মাঝিরকাটা কেন্দ্রে ২ জন খালী। কাউওয়ারখোপ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ জন খালী। চেইন্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জন খালী। খুনিয়া পালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ৩ জন খালী। ধোয়াপালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে ১ জন খালী। দক্ষিণ চাকমারকুল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ জন খালী। এমনকি সিসিতে নামের সাথে লোকের মিল নেই। সিসির সাথে মোবাইল নাম্বারের মিল নেই।
.
এরকম অসংখ্য অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমান উল্লাহর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হইলে তিনি জানান সচ্ছতার
সহিত লোক বাছাই করে নিয়েছি। টাকা নেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। কেন্দ্রে লাটি ও শাড়ির বিষয়ে কথা বলতে গেলে এড়িয়ে গিয়ে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এবিষয়ে জেলা কমান্ডার অ¤øান জ্যোতি নাগ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রামুতে নির্বাচনের ডিউটির জন্য নিয়ম মোতাবেক সার্কুলার দিয়ে জনবল নিয়োগ করা হয়েছে। টাকা নেওয়ার বিষয়ে আমি জানি না। অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিহিত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন
কাউখালীতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার