
তোফায়েল হসেন তপুঃ আজ মহান মে দিবস যা আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ১৮৮৬ খিস্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরে হে মার্কেটে ৮ঘন্টার কাজের দাবীতে শ্রমিকের আত্বত্যাগকে স্মরণ করে এই দিন পালন করা হয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানের অবদান অনস্বীকার্য। আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরাম ২০২৩ সাল থেকে পোশাক শিল্পের শ্রমিকদেও অধিকার নিশ্চিত ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে আসছে। কর্মস্থলে ন্যায় সঙ্গত পরিবর্তন, শ্রম আইন বাস্তবায়ন ও সম অধিকার, বাচাঁর মত মজুরী, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি, অবাধ ট্রেডইউনিয়নের স্বাধীনতা, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সংকট, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এর দাবীতে এই মহান মে দিবস উপলক্ষ্যে আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরাম আয়োজনে বিভিন্ন স্থানে বর্নাঢ্য র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থান হলো যথাক্রমে, জাতীয় প্রেস ক্লাব, সমাবেশে — দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে শ্রমিকরা একত্রিত হন। তারা তাদের দাবীগুলো বলিষ্ঠ কন্ঠে উত্থাপন করেন, দাবীগুলো হলো:
১/ বাঁচার মত মজুরী নিশ্চিত করতে হবে।
২/ প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টরে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস করতে হবে।
৩/ অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত কর এবং আই এল ও সনদ ১৮৯ অনুস্বাক্ষর কর।
৪/ কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা রোধ করতে আই এল ও সনদ ১৯০ অনুস্বাক্ষর কর।
৫/ সকল কারখানায় লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও হয়রানি বন্ধে এন্টি হ্যারেজম্যান্ট কমিটি গঠন কর।
৬/ শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত কর।
৭/ ব্যান্ড এ্যাকর্ড চুক্তি স্বাক্ষর কর ও প্রাইজরেট বৃদ্ধি কর।
৮/ চতুর্থ শিল্প বিরোধের এই সময় ন্যায় সঙ্গত রুপান্তর নিশ্চিত করতে হবে।
৯/ সকল শ্রমিকদের জন্য মৃত্যুভয়হীন নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নিশ্চিত কর।
১০/ শ্রমজীবি মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে রেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত কর।
১১/ ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে শ্রমিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখতে হবে।
১২/ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা, শ্রমিক বান্ধব করতে হবে।
১৩ বাংলাদেশ শ্রম আইনে ও বিধিমালায় সন্নিবেশিত শ্রমিক স্বার্থ-বিরোধী বিধিসমূহ বাতিল পূর্বক নতুন বিধিমালা প্রনয়ন কর।
শ্রমিক দিবসে আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরামের সভাপতি জনাব বিলকিস বেগম তার বক্তব্যে বলেন, দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকদের রয়েছে সক্রিয় ভুমিকা যা জাতির অগ্রগতির অন্যতম শক্তি। বিশ্বব্যাপী নানা ভাবে মে দিবস মর্যাদার সহিত পালিত হচ্ছে ঠিকই কিন্তু আজও সেভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি শ্রমিকদের অধিকার। তাই শ্রমিকদের প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশগ্রহন ও ক্ষমতায়নের জন্য সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগ অবশ্যই প্রয়োজন। এই ব্যাপারে মালিক শ্রেনী ও সরকারকে বিশেষভাবে হস্তক্ষেপ করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরামের সাধারন সম্পাদ জনাব উর্মি আক্তার তার বক্তব্যে বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় পোশাকশিল্পের সকল কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যৌথ দর কষাকষির পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে হবে। তিনি আরো বলেন শ্রমিকদেরকে শ্রমিক হিসাবে নয় মানুষ হিসাবে দেখতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে শ্রমিকদের উপর নানারকম নির্যাতন রোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য।
পরিবেশ দূষনের ফলে কারখানার আশেপাশে যে সব শ্রমিকেরা থাকে তাদের পারিপার্শিক পরিবেশ খুবই নোংরা এবং নোংরা পরিবেশের কারনে শ্রমিকেরা প্রায়শই বিভিন্ন রোগের শিকার হয়। কারখানায় ব্যবহৃত রাসায়নিক বর্জ্য ও অপরিচ্ছন্ন কর্ম পরিবেশের দরুন তাদের বিভিন্ন পেশাগত ব্যাধি হয়। এসব মোকাবেলায় সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগ অবশ্যই প্রয়োজন।
দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য। র্যালী ও সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন আরএমজি ওয়ার্কার্স ফোরামের নেত্রীবৃন্দ বিভিন্ন এলাকার নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ।

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ