হোম » সারাদেশ » আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক ও নোঙর প্রর্তীকের প্রার্থী শরীফ বাদশাহ

আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক ও নোঙর প্রর্তীকের প্রার্থী শরীফ বাদশাহ

মোহাম্মদ খোরশেদ হেলালী, কক্সবাজার প্রতিনিধি : দেশের সবচেয়ে যেখানে কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প, গভীর সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠছে মাতারবাড়ীর বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী আবু মুসা। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন কাটিয়ে আসা এ ব্যবসায়ীর কাছে প্রশ্ন ছিল, ‘ভোট দিতে যাবেন?’ কিছুটা অস্বস্তি নিয়েই তিনি জবাব দিলেন, ‘ভোটের আগেই প্রার্থীর সমর্থকরা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সংঘাতের দিকে যাচ্ছেন। ভোটের দিন কি তারা শান্ত থাকবেন? জীবনসায়াহ্নে এসে জীবনবাজি রেখে ভোট দিতে চাই না।’ তবে ভোটের আগে পরিবেশ পরিস্থিতি দেখে ভোট কেন্দ্রে যেতে পারি
এই দিকে নির্বাচনের শেষ মুর্হুতে এসে মহেশখালী-কুতুবদিয়ার বাজার এখন নির্বাচনী ব্যানার-পোস্টারে ছেয়ে গেছে। প্রার্থীরাও প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এসব দেখে যে কেউ মনে করবেন এখানে ভোট উৎসব চলছে। তবে বাইরে যাই থাকুক, এখানকার মানুষ কিন্তু ভোটের দিন নিয়ে শঙ্কায় আছে।’
সংঘাতের শঙ্কা প্রকাশ পেলো বড় মহেশখালীর বাজারের কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যবসায়ীদের মুখেও। কারণ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক ও নোঙর মার্কা শরীফ বাদশা দুই হেভিওয়েট প্রার্থী বাড়ী বড় মহেশখালীর একই ইউনিয়নে। তাই ভোটাররা অজানা শঙ্কায় রয়েছেন।
নির্বাচনি কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখার সময় সঙ্গী ছিলেন সিএনজি চালক রিয়াজ। আশেক, শরীফ বাদশাহ মধ্যে সংঘাত নিয়ে শঙ্কা দেখা গেলো না তার মধ্যে। রিয়াজের ভাষ্য, ‘নির্বাচন মানেই এখানে উৎসব। প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মিটিং-মিছিলে সরগরম হয়ে উঠে পুরো এলাকা। এবারও তার ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে আশেক উল্লাহ রফিকের নীতি আর্দশ, সুখে দুঃখে সাধারণ মানুষ তাকে মনখুলে কথা বলতে পারায় ভোটার মাঠে ছাড়া ফেলেছেন তিনি। যা ভোটের মাঠে এসে আশেকের এক মাত্র শক্তি হিসাবে কাজ করছে। তাই আশেকের সামনে হ্যাট্রিকের হাতছানি চ্যালেঞ্জ নিতে চান শরীফ বাদশাহ।
এ আসনে বিএনপি জামায়াত অংশ না নেওয়ায় নৌকার বিজয়ের পথ খুব সহজ ছিল। তবে এ সহজ টাকে কঠিনে পরিচিত করেছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান (বিএনএম) থেকে শরীফ বাদশাহ।  নোঙ্গর প্রতীক নিয়ে সমানতালে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে শরীফ বাদশাহ ও তারকর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন পথসভায় নৌকার মাঝি আশেকের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে অভিযোগের আঙ্গুল তুললেও নৌকার মাঝি আশেক এর পাল্টা কোন জবাব না দিয়ে নির্বাচনি পরিবেশ এখনোও শান্ত রেখেছেন।
এই দিকে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী দুইবারের সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)-এর সাবেক মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান শরীফ বাদশা মার্কা নোঙ্গর থাকায় জমে উঠেছে প্রচার।
মহেশখালী -কুতুবদিয়া উপজেলা নিয়েই সংসদীয় আসন কক্সবাজার-২। এখানে এবার নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আবু আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক। তার বিপরীতে প্রার্থী হিসেবে নোঙর মার্কায় লড়ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শরীফ বাদশাহ। এই আসন থেকে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এ দুই প্রার্থী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।
স্বাধীনতার পর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনগুলোতে মহেশখালী-কুতুবদিয়া থেকে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি জয়ী হয়েছেন। এবার এ দুই দল নির্বাচন বর্জন করায় তাদের কোন প্রার্থী নেই। তাই জামায়াত-বিএনপির ‘ভোট ব্যাংক’ কোন দিকে যায় সেদিকে সবার আগ্রহ রয়েছে। দুই প্রধান প্রার্থী আশেক ও বাদশাহও চাইছেন তাদের পক্ষে এ ভোট ব্যাংক টানতে। তবে এ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি কেউ।
বিএনপি-জামায়াতের ভোটের চেয়ে কুতুবদিয়া উপজেলার সব ইউনিয়নের ভোটকেই ফ্যাক্টর মনে করেন অনেকে। কারণ শরীফ বাদশাহ মহেশখালী কেন্দ্রিক রাজনীতি করায় কুতুবদিয়া উপজেলায় তার যোগাযোগ স্বাভাবিভাবেই কম। বিপরীতে টানা দুইবার সংসদ সদস্য থাকায় মহেশখালী -কুতুবদিয়া দুই উপজেলাতেই আশেকের নিজস্ব বলয় তৈরি হয়েছে। যা ভোটের মাঠে তাকে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। অনেকটা তিনি জয়ের মুখে।অন্য দিকে ভোটের দিন পযর্ন্ত মাট ঠিক থাকলে আগের মত ভোট ডাকাতি না হলে সাধারণ মানুষের মতে নোংগর জিতে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি কারণ শরীফ বাদশাহ নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন।
তবে এবার নির্বাচনে কোন চ্যালেঞ্জ দেখছেন না আশেক উল্লাহ রফিক। তিনি বলেন, জনগণ আমার সাথে আছে। আমাকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবে। নির্বাচিত হলে চলমান উন্নয়নকাজ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এখানে একটি নতুন থানা, মহেশখালী -কক্সবাজার ব্রীজ বা টার্নেল করবো। আমি আশা করি সকল শ্রেণির মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে সে সুযোগ দেবেন।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!