
ফয়সাল হাসান
সত্যের সুরভি ছড়ানো এক জীবন বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাঁরা সময়কে অতিক্রম করে হয়ে উঠেছেন আলোকবর্তিকা। তাঁদের মধ্যে অন্যতম প্রবাদপ্রতিম সাংবাদিক কাজী আবুল মনসুর। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের নিরলস সংবাদযাত্রায় তিনি প্রমাণ করেছেন সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয় — এটি সত্যের দৃষ্টান্ত, ন্যায়ের অগ্নিশিখা এবং সাহসের উজ্জ্বল প্রমাণ।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম একাডেমির পক্ষ থেকে প্রবর্তিত “লোকমান খান শেরওয়ানী সাংবাদিকতা পুরস্কার ২০২৪” এই মহৎ পুরুষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এক অনন্য সম্মাননা — যা শুধু একজন মানুষকে নয়, সমগ্র সাংবাদিকতা পেশাকেই দীপ্ত করেছে।
লোকমান খান শেরওয়ানী: এক আলোকিত দিশারী
যার নামে পুরস্কার, তিনি নিজেই ছিলেন আপসহীন নির্ভীক সাংবাদিকতার প্রতীক — লোকমান খান শেরওয়ানী। তাঁর অনমনীয় নীতি, অনবদ্য সততা ও নির্ভীক কলমের কারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন কিংবদন্তি। বক্তাদের ভাষায়, এই পুরস্কার আসলে এক আদর্শকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেওয়া, একটি প্রজন্মকে জাগ্রত করার প্রয়াস।
সাহসের অন্য নাম — কাজী আবুল মনসুরের সাংবাদিকতা জীবনের পথচলা ছিল কণ্টকাকীর্ণ। অসংখ্য প্রতিকূলতা , চাপ, ভয়ভীতি — কোনো কিছুই তাঁকে সত্য অনুসন্ধানের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তিনি দেশের নামকরা সব সংবাদপত্রে চট্টগ্রামের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিনের সংবাদ – এর ডেপুটি সম্পাদক। সেই সঙ্গে তিনি চট্টগ্রাম রিপোর্টারস ফোরামের সভাপতি হিসেবে সাংবাদিকদের অধিকার, কল্যাণ ও মর্যাদার জন্য অবিরাম কাজ করে চলেছেন।
এক গভীর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন — “লোকমান খান শেরওয়ানী সাংবাদিকতা পুরস্কার আমার সাংবাদিকতা জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। এই সম্মাননা আমাকে শুধু নয়, সমগ্র চট্টগ্রামের সাংবাদিক সমাজকে নতুন উদ্দীপনা দেবে।”
চট্টগ্রাম একাডেমির এই উদ্যোগ কেবল একজন মানুষকে পুরস্কৃত করা নয়; এটি আসলে আদর্শের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। সমাজ যখন বিভ্রান্তির ঘূর্ণিপাকে, যখন বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ঝুঁকির মুখে, তখন কাজী আবুল মনসুরের মতো মানুষরা সত্যের পথে অবিচল থেকে প্রমাণ করেছেন সাংবাদিকতা এখনও মহৎ, এখনও উজ্জ্বল।
সাংবাদিকতার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার আহ্বান অনুষ্ঠানের বক্তারা উল্লেখ করেন — সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা, এর মর্যাদা রক্ষা করা কেবল সাংবাদিকদের নয়, সমগ্র সমাজের দায়িত্ব। কারণ সত্যকে ধারণ করা, অনালোচিতকে আলোয় আনা, নিঃস্বার্থভাবে জনমানুষের কথা বলা — এই দায়িত্বই সাংবাদিকতার প্রাণ।
কাজী আবুল মনসুর সেই দায়িত্বকে আজীবন বয়ে বেড়িয়েছেন। তাঁর প্রতিটি প্রতিবেদন, প্রতিটি কলমের আঁচড় যেন সমাজের বিবেককে জাগ্রত করে। তিনি শুধু সংবাদ প্রকাশ করেননি; তিনি সময়ের ইতিহাস লিখেছেন।
নতুন প্রজন্মের অনুপ্রেরণা – আজকের প্রজন্ম যখন নানা চ্যালেঞ্জে বিপর্যস্ত, তখন কাজী আবুল মনসুর তাঁদের জন্য এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর জীবন ও কর্ম প্রমাণ করে — সাহস, সততা ও নীতি থাকলে সাংবাদিকতা হতে পারে জাতির চেতনার আয়না।
এই পুরস্কার প্রজন্মের পর প্রজন্মকে স্মরণ করিয়ে দেবে — একজন প্রকৃত সাংবাদিক কেমন হন। বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অঙ্গনে কাজী আবুল মনসুর আর কেবল একজন মানুষ নন, তিনি এক প্রতীক। তিনি এক মানবিকতার দূত, যিনি নিরন্তর কাজ করে চলেছেন মানুষের জন্য, সাংবাদিকদের জন্য, সমাজের জন্য। যেভাবে লোকমান খান শেরওয়ানীর নাম ইতিহাসে লিপিবদ্ধ, তেমনি কাজী আবুল মনসুরও হয়ে উঠছেন এক অনিবার্য নাম — যাঁর আলো বাংলাদেশ ছাড়িয়ে পৌঁছে যাবে বিশ্বজুড়ে।

আরও পড়ুন
“অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমাতে তামাকপণ্যের উপর কর বৃদ্ধির প্রস্তাব চিকিৎসকদের”
বনানী উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস