
মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান
শনিবার (১৩ জুন) বিকাল তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ঐতিহাসিক গাদিরে খুম দিবস উপলক্ষে “আঞ্জুমানে মুহিব্বীনে আহলে বায়ত (আঃ) বাংলাদেশ” এর উদ্যোগে মাওলা ইমাম আলী (আঃ) আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
আঞ্জুমানে মুহিব্বীনে আহলে বায়ত(আঃ) বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও প্রবাসী সাংবাদিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুহাম্মদ নুরুল আবছার তৈয়বীর সঞ্চালনায় এবং বকশীবাজার খানকাহ শরীফের পীর সাহেব শাহ সাঈদ আনওয়ার আল মোবারকী ক্বাদরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি।সম্মেলন উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের শাহ আমানত(রহঃ) দরগাহ শরীফের মুতোওয়াল্লীহ আলহাজ্ব শাহজাদা শাহ সুফী মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ খান।
আন্তর্জাতিক মেহমানে আলা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের আজমীর শরীফে অবস্থিত খাজা গরীবে নেওয়াজ (রহঃ) এর দরগাহের গদ্দীনশীন শাহসূফী সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া দস্তগীর চিশতি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডঃ সাইফুল ইসলাম খান, মিনহাজুল কুরআন ঢাকার সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল খুরশীদ আলম (অবঃ), বিএফইউজের মহাসচিব আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী।আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ আহসানুল হাদী, ভারতের মেদেনীপুর দরবারের আলেম আল্লামা শায়খ ওয়ালীউল্লাহ কাদেরী,পীরে তরিকত শায়খ মোশতাক আহমেদ মুজাহিদ পাঞ্জাতনী, আঞ্জুমানে মুহিব্বীনে আহলে বায়ত (আঃ) বাংলাদেশের উপদেষ্টা জনাব ইলিয়াস খান, মিনহাজুল কুরআন ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী রিজভী, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সভাপতি মোঃ অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান,শায়খ আল্লামা ফুয়াদ ফারুকী আলমাহদী, গবেষক গোলাম দস্তগীর লিসানী,শেখ মোঃ নাসের শরিফুজ্জামান,জামাল উদ্দিন মোস্তফা, ওয়ালিউল্লাহ আতিকুর রহমান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে পাক-পাঞ্জাতন সম্মাননা লাভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ডঃ আহসানুল হাদী,দরবারে কদমিয়া আলীয়ার পীরে তরিকত আমিনুল এহসান ফেরদৌস,মোহাম্মদী কাফেলা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা এ আর এম কামরুল ইসলাম এবং পবিত্র আহলে বায়ত গবেষক ইঞ্জিনিয়ার তমিজ উদ্দিন কাদেরী।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন,মাওলা আলী(আঃ) ছিলেন অতুলনীয় জ্ঞান ও মহিমান্বিত শান-মানের অধিকারী। তাঁর সম্পর্কে বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার পথে প্রিয় নবী (দঃ) ঐতিহাসিক গাদীর খুমে সাহাবীদের সম্মেলনে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন-” আমি যার মাওলা(অভিভাবক) ,আলী তার মাওলা।হে আল্লাহ, তাকে সাহায্য করুন, যে আলীকে সাহায্য করে। আপনি তাকে ভালোবাসুন, যে আলীকে ভালোবাসে। আপনি তার সাথে শত্রুতা করুন, যে আলীর সাথে শত্রুতা পোষণ করে। আপনি তাকে অপমান করুন, যে আলীকে অপমান করে”।
বক্তারা বলেন,মাওলা আলী(আঃ) এবং পবিত্র আহলে বায়তে রাসুলের আনুগত্য ও ভালোবাসা হলো ঈমানের দাবী এবং গোমরাহী থেকে বাঁচার অবলম্বন। আল্লাহর রসুল (দঃ) সাহাবাদের উদ্দেশ্য করে বলেন,আমি তোমাদের মাঝে দু’টি মহিমান্বিত ও ভারী আমানত রেখে যাচ্ছি। একটি হলো আল্লাহর কিতাব (কুরআন) এবং অপরটি হলো আমার আহলে বাইত (বংশধর)। তোমরা এই দুটি আকড়ে ধরলে কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না। বক্তারা বলেন, অতুলনীয় জ্ঞান ও মহিমান্বিত মর্যাদার কারণে মাওলা আলী যুগে যুগে সত্যানুসন্ধানীদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।অশান্তি, সংঘাত, হানাহানি থেকে বেরিয়ে এসে পবিত্র আহলে বাইতের আদর্শকে মজবুত করে আকড়ে ধরে শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের উপর বক্তারা গুরুত্বারোপ করেন।
শেষে সালাত আদায়,সালাম,দু’আ-মুনাজাত এবং তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

আরও পড়ুন
স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে গাবতলীতে ট্রাফিক পুলিশের পাক্ষিক ‘হেলথ ক্যাম্প’
রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের অপসারণ দাবি
“শুধু বিশেষ পরিস্থিতিতে নয়, প্রত্যেক ধর্ষণ মামলাই সমান গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত ও বিচার কার্য সম্পাদন করতে হবে”-মতবিনিময় সভায় বিশিষ্টজন