হোম » সারাদেশ » সড়ক উন্নয়নের আড়ালে শঙ্খ নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, ভাঙনের শঙ্কায় তীরবর্তী জনপদ

সড়ক উন্নয়নের আড়ালে শঙ্খ নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন, ভাঙনের শঙ্কায় তীরবর্তী জনপদ

Oplus_131072

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
ভাঙনকবলিত শঙ্খ নদী ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। যুগ যুগ ধরে এই নদীর ভাঙনে হাজারো মানুষ ভিটেমাটি হারিয়েছেন। প্রতি বর্ষায় এখনো নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটান। এমন পরিস্থিতিতে নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে তার কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। অভিযোগ উঠেছে, চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি ইউনিয়নের চিরিংঘাটা পয়েন্টে প্রকাশ্যে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর দুই তীরের ফসলি জমি ও আশপাশের গ্রামগুলো মারাত্মক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর চিরিংঘাটা জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা জানান, দিয়াকুল-চিরিংঘাটা-ধোপাছড়ি সংযোগ সড়কের উন্নয়ন কাজের জন্য এ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাদের দাবি, নাসির উদ্দীন ও মোক্তার আহমদ নামে দুই ব্যক্তি এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক উন্নয়নের কথা বলা হলেও উত্তোলিত বালুর একটি অংশ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে জমির মালিকদের কাছ থেকেও কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার কারণে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানান অনেকে।
এদিকে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসীম উদ্দীন আহমদ সম্প্রতি শঙ্খ নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তার এমন অবস্থানের মধ্যেই প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, “গত বছর একই স্থানে বালুর গভীর গর্তে পড়ে এক তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছিল। এবার যেভাবে বালু তোলা হচ্ছে, তাতে নদীর দুই তীরই মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়বে। মসজিদ, মাদরাসা ও অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত বছর বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দেড় বছর পর কাজ শুরু হলেও আবারও একই ধরনের বিরোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে পুনরায় উন্নয়ন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা করছেন তারা।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাজিব হোসেন বলেন, “শঙ্খ নদীর ধোপাছড়ি চিরিংঘাটা অংশে বালু উত্তোলনের জন্য কাউকে কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সেখানে কোনো বালু মহালও নেই। কারা এ কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!