
এম হিরন প্রধান:
লক্ষ লক্ষ জনতার মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো রাজধানী যেন এক অদ্ভুত আবেগে আলোড়িত হয়ে ওঠে। নেতা–কর্মীদের উজ্জীবিত কণ্ঠ, ব্যানার–ফেস্টুন ও দলীয় পতাকায় ঢাকার প্রধান সড়কগুলো রূপ নেয় জনসমুদ্রের দৃশ্যে। দীর্ঘদিন পর এমন বিপুল জনসমাগম রাজধানীর রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে কাঞ্চন ব্রিজ, বনানী, গুলশান হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতাল পর্যন্ত—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ে মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা দলে দলে ঢাকায় প্রবেশ করতে থাকেন। অনেকেই মিছিল সহকারে, কেউ কেউ বাস ও ট্রাকে করে সমাবেশস্থলের দিকে অগ্রসর হন।
পথে পথে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও কৌতূহল ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল দেখেন, কেউ কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্লোগানে অংশ নেন। এতে সমাবেশটি কেবল দলীয় কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জনসম্পৃক্ততার রূপ নেয়।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। তবে জনতার মাঝে কোনো বিশৃঙ্খলা বা উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়নি। বরং পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল শৃঙ্খলা ও উৎসবমুখর পরিবেশ। নেতা–কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর এমন বিস্তৃত এলাকায় একযোগে জনসমাগম ক্ষমতার প্রদর্শনের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক শক্তিরও ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় পর এমন দৃশ্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সমগ্র আয়োজন রাজধানীর রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত পর্যবেক্ষকদের

আরও পড়ুন
দশ মাসের আত্মগোপনের অবসান: র্যাবের অভিযানে ধরা মমিনুল হত্যা মামলার আসামি
চিলাহাটি রেলস্টেশনে দুই শিশু সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যার চেষ্টা
সরকারি সহায়তার নামে কোটি টাকার প্রতারণা: চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘মাসকুরা ট্রেডার্স’ এর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের মানববন্ধ