
নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় রেলে পরিচালন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি লোকসানও বেড়েছে। অনিয়ম বন্ধ এবং সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে না পারার কারণে রেলওয়ের লোকসান কমানো সম্ভব হয়নি। লোকসান কমাতে দুর্নীতি কমিয়ে ব্যয় সংকোচনের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রেন বাড়ানোর পরামর্শ।
দেশের জনসংখ্যা বাড়লেও রেলের পরিধি সে অনুপাতে বাড়েনি। বাড়ানো হয়নি রেলসেবাও। বলা বাহুল্য, যাত্রীসংখ্যা ও চাহিদা অনুসারে পরিবহনসেবা দিতে সমর্থ নয় রেল খাত। যদিও এ খাতে বিনিয়োগের তেমন কোনো ঘাটতি নেই। গত আড়াই দশকে মোটা অংকের বিনিয়োগ পেয়েছে রেল খাত। তবুও সেবার পরিসর বাড়েনি, উল্টো সম্প্রতি সেবা সংকোচনের পথে হাঁটছে তারা।
দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর হাতে দমনের মাধ্যমে রেলের সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে। পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে রেল হলো বহুল ব্যবহৃত গণপরিবহন। উন্নত প্রযুক্তি ও অবকাঠামো, ট্রেন, চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নত করে বহু দেশ তাদের রেল যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হলেও আমাদের দেশে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অন্য দেশে রেল সাধারণত লাভজনক না হলেও অলাভজনক খাত হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে বহু বছর ধরে রেলওয়ে মানেই অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অবশ্য এখানে আন্তরিকতা ও
পৃথিবীর অধিকাংশ দেশে রেল হলো বহুল ব্যবহৃত গণপরিবহন। উন্নত প্রযুক্তি ও অবকাঠামো, দ্রুতগতির ট্রেন, সময়মতো চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান উন্নত করে বহু দেশ তাদের রেল যোগাযোগব্যবস্থার আমূলার সংবাএসব প্রকল্পের সঙ্গে পরিবর্তন আনতে সক্ষম হলেও আমাদের দেশে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। অন্য দেশে রেল সাধারণত লাভজনক না হলেও অলাভজনক খাত হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে বহু বছর ধরে রেলওয়ে মানেই অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। অবশ্য এখানে রেল, বিমান, অভ্যন্তরীণ নৌযান বা সড়কের বাস সার্ভিস ইত্যাদি সব খাতেই সরকারি প্রতিষ্ঠান বরাবর লোকসান গুনে যাচ্ছে। এর প্রধান এবং কর্মীদের কারণ দুর্নীতি দ্রুতগতির সময়মতো
দক্ষতার অভাব রেল, বিমান, অভ্যন্তরীণ নৌযান বা সড়কের বাস সার্ভিস ইত্যাদি সব খাতেই সরকারি প্রতিষ্ঠান বরাবর লোকসান গুনে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ দুর্নীতি এবং কর্মীদের আন্তরিকতা ও দক্ষতার অভাব। যেহেতু দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে রেলের রুঘ্ন দশা কাটছে না, সেহেতু এ সংস্থার সর্বক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। আমরা মনে করি,
দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর হাতে দমনের মাধ্যমে রেলের সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে। সুতরাং, অন্যান্য খাতের মতো রেলখাতকেও গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনে সরকার উদ্যোগী হবে বলে আমারা আশা করি। নানা অনিয়মে জর্জরিত দেশের রেলওয়ে বহুবার আলোকপাত করা হলেও কার্যত সরকার পতনের পর দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা আসছে। বস্তুত, অব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপটে থাকলেও লোকসানের ভারে ন্যুব্জ হয়ে খাতের সংস্কারের বিষয়ে ইতোপূর্বে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। বিগত দুর্নীতির চিত্র বর্তমানে বের হয়ে রেলের লাভজনক হওয়ার সম্ভাবনা পড়েছে সংস্থাটি। রেলের প্রধান
সমস্যাগুলো চিহ্নিত হলেও এগুলোর সমাধানে বিগত সরকারকে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সে সময়ে রেলের অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হলেও আসলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখনো চলমান রয়েছে বিপুল অঙ্কের অর্থের নানা প্রকল্প। এসব প্রকল্পের যৌক্তিকতা যাচাই করে পুনঃসিদ্ধান্ত নেয়া উচিত বলে মনে করি আমরা। শুধু তাই নয়; যেসব প্রকল্পের নামে সীমাহীন অর্থ লুটপাট হয়েছে, সমীক্ষার মাধ্যমে সেগুলোরও প্রকৃত চিত্র বের করা প্রয়োজন। যারা জড়িত, তাদেরও আনতে হবে জবাবদিহিতার আওতায়। এবং দুর্নীতির কারণে তাদেরকে শাস্তি ব্যবস্থা করতে হবে যাতে আগামী দিন কোন লোক এই দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হলে ওই শাস্তির কথা যেন তার মনে পড়ে। তাহলে কোনদিন দুর্নীতি করার সাহসই পাবে না ।
দুর্নীতিগ্রস্ত রেল খাত দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার করুন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর হাতে দমনের মাধ্যমে রেলের সার্বিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে। কোনো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সাশ্রয়ী ও তুলনামূলক নিরাপদ পরিবহন ট্রেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এটি একটি জনপ্রিয় পরিবহন। আর আমাদের মতো সীমিত সম্পদ কিন্তু জনসংখ্যার আধিক্যের দেশে ট্রেন কেবল জনপ্রিয়ই নয়, গণপরিবহন হিসেবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। যাতায়াত, মালামাল পরিবহন থেকে শুরু করে কর্মসংস্থানের অন্যতম মাধ্যম রেল খাত।
অথচ বাংলাদেশ রেলওয়ে চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ইদানীং ট্রেন দুর্ঘটনাও বেড়েছে। আর টিকিট কালোবাজারিও যেন স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপুল বিনিয়োগের পরও কেন বর্তমানে রেলওয়ের এ অবস্থা, প্রকল্পগুলোর ফাঁকফোকর কোথায় তা তদন্ত করে খুঁজে বের করা দরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অতি আবশ্যক। বিশেষ করে রেলের যাবতীয় আয়-ব্যয় হিসাব নিরপেক্ষ ও নিবিড় নিরীক্ষার মাধ্যমে রেলের লোকসানের কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক কার্যক্রম জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসা দরকার।
অন্যথায় লোকসানের এ ধারা অব্যাহত থাকলে সেবার পরিধি বিস্তৃত হবে না। সেই সঙ্গে দুর্নীতিকারীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি যেসব রেল কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলা করে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে সেবা বৃদ্ধি করা যায় না যদি না তা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত রেল খাতের অনেক উন্নতি সাধন হয়েছে ঠিকই, তবে সেবার মান্নোয়নে দূর করতে দুর্নীতি ও অব্যস্থাপনা দূর করা ছাড়া উপায় নেই।
-মোহাম্মদ হানিফ-

আরও পড়ুন
আলফাডাঙ্গায় প্রবাসীর বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল
ক্ষেতলালে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ৩১ পিস ট্যাপেনটাডলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ