হোম » প্রধান সংবাদ » ভৈরবে জমি সংক্রান্ত জের ধরে অসহায় নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ 

ভৈরবে জমি সংক্রান্ত জের ধরে অসহায় নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ 

এম আর ওয়াসিম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্বামীর সৎ ভাই বোনদের সাথে বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছে বলে অভিযোগ জানায় এক অসহায় নারী। উক্ত জেরে দীর্ঘদিন ধরে নানা  ভাবে নির্যাতন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ভুক্তভোগীর নাম বিলকিস বেগম। সে শিমুলকান্দি ইউনিয়নের তুলাকান্দি গ্রামের মৃত বাবুল মিয়া স্ত্রী।
বিলকিস বেগম জানায়, প্রায় ১৫ বছর পূর্বে স্বামী বাবুল মিয়াকে সাউথ আফ্রিকা সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করে ফেলে। সেই থেকে ২ শিশু ছেলে দেলোয়ার ও রাহিম এবং ১ শিশু কন্যা রোহানা কে নিয়ে খুব কষ্ট করে জীবন যাপন করতে থাকি। স্বামীর মৃত্যুর পর খুব কষ্ট করে ৩ শিশু সন্তানের নিয়ে জীবন যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ি। এরই মাঝে  মধ্যে বড় ছেলে দেলোয়ার কে সংসারের হাল ধরতে ধার দেনা করে সৌদি আরব প্রেরন করি গত ৩ বছর আগে। ছোট ছেলে রাহিম ও মেয়ে রোহানা বর্তমানে ১০ শ্রেনীতে অধ্যায়ন রত।
জীবন যুদ্ধে হার না মানলেও এলাকার দুষ্কৃতিকারী ও এলাকার এক প্রভাবশালী মহলের কাছে হেরে গেছে আমি। ঐ প্রভাবশালী মহলের অত্যাচারে মূল বাড়ি ছেড়ে স্বামীর অন্য জায়গায় এসে বাড়ি করে বসবাস করছি। কিন্তু সেখানেও অত্যাচার করছে ঐ প্রভাবশালী মহল। কখনো রাতের বেলা, কখনো দিনের বেলা হামলা করছে তারা। হামলা করে যখন যা পাচ্ছে (সোনা-দানা, টাকা- পয়সা) লুট করে নিয়ে যাচ্ছে ঐ প্রভাবশালী মহলের সন্ত্রাসী বাহিনী। অত্যাচারীতার এই ধারাবাহিকতায় গতকালও  আমার  বাড়ির নিরাপত্তা বেষ্টনী (নতুন ইটের দেয়াল) দিনের বেলা প্রকাশ্যে মুখ বেধে সন্ত্রাস বাহিনীরা ভেঙ্গে ফেলে চলে যায়।
তাদের আতংকে ভয়ে দিন কাটছে আমার। আমার  ১০ম শ্রেনীতে পড়ুয়া রাহিম ও রোহানাকে নিয়ে ভয়ে রাত কাটে। এসব বিষয়ে আমি থানা পুলিশের সাহায্য নিয়েছি বলে এখন তারা আমার উপর আরো বেশী অত্যাচার শুরু করে দিয়েছে। এমনি কি বাড়ির নিরাপত্তার জন্য একটা ইটের দেয়াল দিয়েছিলাম সেটাও তারা গত ২০ ডিসেম্বর সন্ত্রান বাহিনী দিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। এমতাবস্থায় আমি ও আমার সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য আইন প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শিমুলকান্দি ইউনিয়নের বিট অফিসার এস আই সালাম বলেন, দীর্ঘ দিন যাবত এই বাড়ির সাীমানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিলকিস বেগম উক্ত বিষয় নিয়ে একটি অভিযোগ করেন।  অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহিন এর নির্দেশে মামলার প্রেক্ষিতে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে একটি শালিস বসে। শালিসে উভয় পক্ষের সার্ভেয়ার দিয়ে জায়গাটি বুঝে নেয়ার পরামর্শ হয়। কিন্তু বিলকিস বেগমের বিরেধী পক্ষ মাপ জোক করতে অনিচ্ছা পোষণ।
এক পর্যায়ে বিসকিস বেগমের বাড়িতে হামলা করে বিভিন্ন জাতের গাছ গাছড়া কেটে ফেলে এবং বাড়ির টিনের বেড়া উঠিয়ে নিয়ে যায়। এমনকি ঘরের ভিতরে ডুকে আসবাব পত্র ভেঙে ক্ষতি সাধন করে। এবিষয়ে বিলকিস বেগম থানায় একটি অভিযোগ করলে অভিযোগের প্রেরিতে অফিসার ইনচার্জ একটি মামলা রুজু করে। মামলাটি বর্তমানে বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে। পরবর্তীতে বিলকিস বেগম বাড়ির নিরাপত্তার জন্য একটি ইটের দেয়াল নির্মান করলে বিরোধী পক্ষ লোকজন নিয়া তা ভেঙে ফেলে। এবিষয়ে উভয় পক্ষের মাঝে দ্বন্দ চরমে।
এবিষয়ে শিমুলকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জোবায়ের আলম দানিচ বলেন, আমার নিকট কোন পক্ষের কোন লোকজন আসেনি বা কোন প্রকার অভিযোগ কেউ করেনি। যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে বিষয়টি সমাধানের জন্য চেষ্টা করব।
এবিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহিন বলেন, উক্ত ঘটনায় গত ৪ ডিসেম্বর মামলা রুজু করে একজন আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি সামাজিক ভাবে শালিসের মাধ্যমে শেষ হওয়ার কথা ছিল। ইতিপূর্বে এবিষয়ে একটি শালিস হয়েছে। ঐ জমির উপর উভয় পক্ষ ১৪৪ মামলা করেছে। তাই সেখানে কোন পক্ষই কোন কিছু গড়তে বা ভাঙতে পারবে না। যদি কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেই, তাইলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!