হোম » খেলা » বিপিএল ফাইনাল অধিনায়ক মাশরাফির ম্যাজিক অবশ্যই আছে, দলকেও উদ্ধার করেন তিনি

বিপিএল ফাইনাল অধিনায়ক মাশরাফির ম্যাজিক অবশ্যই আছে, দলকেও উদ্ধার করেন তিনি

আওয়াজ অনলাইন: তিনি বার বার বলছেন, ‘নারে ভাই, ম্যাজিক বলে কিছু নেই।’ রংপুর রাইডার্সকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখার পর একই প্রশ্নের উত্তরে মাশরাফি বলে ওঠেন, ‘নাহ ভাই, আমার কোনই ম্যাজিক নেই। সব মহান আল্লাহর রহমতে হচ্ছে।’

বিনয়ী মাশরাফি এমন কথা বলতেই পারেন। প্রাণখোলা-উদার মানসিকতার মাশরাফির কন্ঠে এমন বিনয়ী কথাবার্তাই শুনে অভ্যস্ত সবাই; কিন্তু প্রশ্ন হলো আসলেই কি তাই?

মাশরাফি ম্যাজিক বলে কি সত্যিই কিছু নেই? সিলেটের প্রথমবার ফাইনালে ওঠে আসার পিছনে অধিনায়ক মাশরাফির কি কোনই ভূমিকা নেই? তার ক্যারিশমা নেই?

নিশ্চয়ই আছে। আর অধিনায়ক মাশরাফির ক্যারিশমা আছে বলেই তিনি বিপিএলের ইতিহাসের সব সময়ের ও সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। অধিনায়ক মাশরাফির হাতে বিশেষ জাদু আছে, তাই তার নেতৃত্বে দুবার ঢাকা, একবার করে কুমিল্লা এবং রংপুরকে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কই আর কারোতো অমন সাফল্য নেই!

তার মানে ধরেই নিতে হবে মাশরাফির নেতৃত্বে এমন কোন বাড়তি গুণ ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে, যাতে দল উপকৃত হয়। সবাই বলেন, ‘মাশরাফি এক সার্বজনীন চরিত্র। সবাইকে নিয়ে মিলেমিশে থাকতে, ফিরতে ও চলতে পছন্দ করেন। যে কারণে তার নেতৃত্বে দলে সম্প্রীতির বন্ধনটা থাকে বেশি। সংহতিও তৈরি হয় প্রচুর।’

কিন্তু প্রশ্ন হলো, শুধু সম্প্রীতি, ঐক্য এবং সংহতিই কী চূড়ান্ত সাফল্যের জন্য যথেষ্ঠ? নিশ্চয়ই না। সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার টিম পারফরমেন্স। আর সময়ের দাবি মেটাতে পারা। খুব ভাল করে লক্ষ্য করুন, দেখবেন অধিনায়ক মাশরাফি এ দুই কাজটাই খুব ভাল পারেন।

কাগজে কলমে দল যেমনই থাকুক, যত নামি-দামি প্লেয়ারই সঙ্গে থাকেন না কেন, চূড়ান্ত সাফল্য পেতে চাই স্থানীয়দের ভাল খেলা। বিশেষ দেশের তরুণদের ব্যাট ও বল হাতে জ্বলে ওঠা। তাদের কাছ থেকে সেরা নৈপুণ্য আদায়ের পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের সময়মত ব্যবহার করা খুব দরকারি।

এই কাজে মাশরাফির চেয়ে দক্ষ কে আছেন? তিনি তরুণদের সবচেয়ে বেশি ব্যাকআপ করেন। আবার প্রয়োজনে তাদের আড়াল করে নিজেই ব্যাট ও বল হাতে তুলে নেন।

খুব বেশি পিছনে তাকাতে হবে না, খুলনা টাইগার্সের সাথে শীর্ষস্থান নিশ্চিতের ম্যাচ আর মঙ্গলবার শক্তিতে এগিয়ে থাকা সোহানের রংপুরের বিপক্ষে দলের প্রয়োজনে নিজের ওপরে অনেক ভাল খেলা ও ফর্মে থাকা ব্যাটারদের রেখে নিজেই ব্যাট হাতে নেমে দলের ব্যাটিংটাকে চাঙ্গা করেন মাশরাফি।

এইতো এলিমিনেটর পর্বে রংপুর রাইডার্সের সাথে লঙ্কান রাজাপাকশে আর আফগান করিম জানাতকে রেখে নিজে আগে নামতে দ্বিধায় ভোগে প্রকারান্তরে দলকে টেনে তুলতে পারেননি বরিশাল অধিনায়ক সাকিব।

সেখানে পুরো আসরে ব্যাট হাতে ভাল খেলা ও রানে থাকা জাকির-মুশফিক এবং শেষ মুহূর্তের সংযোজন রায়ান বার্লের মত ফ্রি-স্ট্রোক মেকারদের রেখে সব দায় দায়িত্ব নিজের ঘাড়ে নিয়ে রংপুরের সাথে অস্তিত্বের লড়াইয়ে ওয়ান ডাউনে নেমে প্রথম বলে ছক্কা, পরের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে এবং ১৭৫ স্ট্রাইকরেটে ২৮ রানের কার্যকর ইনিংস উপহার দিয়ে দলের স্কোরলাইনকে চাঙ্গা করেন মাশরাফি।

সেটাই শেষ নয়, অধিনায়ক মাশরাফির আরও জাদুকরি সিদ্ধান্তে দারুণভাবে উপকৃত হয়েছে সিলেট। তার প্রমাণ তানজিম সাকিব। রাউন্ড রবিন লিগে দুর্বার বোলিং করা পেসার রেজাউর রহমান রাজাকে পাল্টে রোববার রংপুরের সাথে ভাইটাল ম্যাচে আরেক তরুণ পেসার তানজিম সাকিবকে খেলান মাশরাফি। ১৮ নম্বর ওভারে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলিংয়ে এনে বোলার তানজিম সাকিবের কাছ থেকে সেরাটা বের করে প্রকারন্তরে দলের সাফল্য ত্বরান্বিত করেছেন অধিনায়ক মাশরাফি।

ওই ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে রংপুর অধিনায়ককে ফিরিয়ে দেন পেসার সাকিব। রংপুরের জয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা ওপেনার রনি তালুকদার একই ওভারে রান আউট হলে ম্যাচ ঘুরে যায়। সাকিবের ওই ওভারটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।

এই যে জায়গা ও সময়মত বোলার ব্যবহার ও ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনে সাহস করে নিজে নেমে পরিস্থিতি মোকাবিলা, এগুলো কি ক্যাপ্টেন্স ম্যাজিক নয়? অবশ্যই ম্যাজিক। আর সেটাই আছে অধিনায়ক মাশরাফির।

আর তাই তিনি ব্যতিক্রম। সেরা ক্যাপ্টেন। শিরোপাও বারবার তার হাতে ওঠে।

শেয়ার করুন আপনার পছন্দের সোশ্যাল মিডিয়ায়
error: Content is protected !!